সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল (পে-স্কেল)-২০২৬ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় ১১ বছর পর কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন স্কেল অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বেতন স্কেল চলতি বছরের ১লা জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় মূল বেতন ২০২৬ সালের ১লা জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১লা জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাড়ানো হবে। এছাড়া বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই নতুন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্তসহ মোট ৩৩ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এর জন্য সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
নতুন বেতন কাঠামোয় পেনশনারদের জন্য বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও, ২০৩০ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিকল্প হিসেবে পেনশন বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা অনুমোদন করা হয়েছে, যেখানে কম পেনশনভোগীরা বেশি হারে সুবিধা পাবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনভোগীরা ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি পেনশনভোগীরা ৫৫ শতাংশ হারে বাড়তি সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন স্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বাড়তি পরিচর্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া মোবাইল ভাতার আওতা বাড়িয়ে ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সব সরকারি কর্মচারীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগে কেবল ৫ম গ্রেড পর্যন্ত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা এই সুবিধা পেতেন। দাপ্তরিক কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও অ্যাপভিত্তিক কাজের চাপ বাড়ায় সব পর্যায়ের কর্মচারীর জন্য এই সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর এসব তথ্য জানা গেছে। চাকরির আরও তথ্য: সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে। চাকরির আরও তথ্য: তবে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অন্যতম কারণ একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং এর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসর নেয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্তে বেশি সুবিধা পাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি দপ্তরগুলোতে ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজ বাড়ায় প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারীকেই ব্যক্তিগত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে।