বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আশিক বন্ধুর কথা ও সুরে নাটকে আইটেম গানে স্মরণ “গফরগাঁও ভূমি অফিসে দুর্নীতি, জাল দলিল” কে এই ক্ষমতাবান, অসৎ,দুর্নীতিবাজ ঘুষখুর মোঃ ইমন! “১২ তম শাহাদত বার্ষিকীর স্মরণে” গফরগাঁও উপজেলার কে এই “মরহুম মোঃ মহিবুল হক (লাল মিয়া)” বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী মরহুম মোঃ মহিবুল হক এর স্মরণে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা ও দোয়া মাহফিল রাউজানের অহংকার আলহাজ্ব জসিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নি‌জে‌কে তৈ‌রি কর‌ছেন সুরাইয়া নীল আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব ঢাকা ২০২৫ অনুষ্ঠিত ।। বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিল ডব্লিউপিএলও নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির মনোনীত ঢাকা -১০ এর প্রার্থীর নির্বাচনী পরামর্শ “বেগম খালেদা জিয়া এর সুস্থ‌তা কামনায় বিশেষ দোয়া” এপি হাউস সুপার মডেল অফ দ্য ইয়ার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও আইকনিক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

“১২ তম শাহাদত বার্ষিকীর স্মরণে” গফরগাঁও উপজেলার কে এই “মরহুম মোঃ মহিবুল হক (লাল মিয়া)”

প্রতিবেদকের নাম
add

নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও মানব সেবা ছিল যার সঞ্চয় “

ডেস্ক  রি‌পোট : তৎকালীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম বংশের সন্তান ছিলেন মরহুম সেকান্দর আলী এর পুত্র ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এর সাবেক গভর্নর মরহুম আব্দুল মোনয়েম খান যিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকায় নিজ বাসভবনে আত্মতায়ীদের ভুলেটের গুলিতে নিহত হন। মরহুম মোনেম খান এর সহধর্মিণী – মরহুমা রাবেয়া আক্তার খানম এর ছোট ভাই এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান-এর মামা গফরগাঁও উপজেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য ও সাহায্যকারী, দানশীল ছিলেন মরহুম মোহাম্মদ মহিবুল হক (লাল মিয়া) , তিনি গত ১৭ জুন ২০১৪ইং নিজ গ্রামের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না. রাজিউন)। তৎকালীন সময়ে মরহুম মোঃ মহিবুল হক (লাল মিয়া) এর মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকার প্রায় প্রতিটি যুবক, নারী-পুরুষের মুখে ছিল ঐ দিন একটি মাত্র ভাষা ভাল মানুষ চলে গেলেন। তাই এই মানবতার দেশকর্মীর মৃত্যুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মরহুম এর মৃত্যু বার্ষিকীতে তাহার কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। মরহুম মোহাম্মদ মহিবুল হক ছিলেন এলাকার গরিব, দুঃখী, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের আত্মার আত্মীয়। তিনি নিজে না খেয়ে ও আহার অভাবী দুঃখী, অসহায় মানুষের বাসস্থান সহ আহারের অভাব পূরণ করতে চেষ্টা করেছেন। তবে বাংলার ইতিহাসে মরহুমের কর্মময় জীবন এলাকার মানুষের অন্তরে এক বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে আছে। যাহার পেশা ও নেশাই ছিল জনগণের সেবা করা, মানুষের কল্যাণ করা। এলাকায় জনগণের স্বার্থে নিজের সম্পদ বিলীন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বেকার মানুষ ও যুব সমাজের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করা, শিক্ষার হার উন্নয়ন ও মান সম্মত শিক্ষার উন্নয়ন করা সৃষ্টি করা অর্থাৎ জনগণের মঙ্গলের জন্য চেষ্টা করা এ রকম বিরল দৃষ্টান্ত দেশে কম রয়েছে। এই সমাজ সেবক নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা না করে জনগণের স্বার্থে নিজের পৈত্রিক সম্পদ ও অর্থ দিয়ে গফরগাঁও এর বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস বা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, রাস্তাঘাট, বিদ্যুতায়ন, সরকারী অফিস ইত্যাদি উন্নয়নমূল মূলক কর্মকাণ্ড স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে মরহুমের সতর বাড়ী গ্রামে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মতো প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি অফিস, মাদ্রাসা, পাঞ্জাখানা মসজিদ ও বাজার ইত্যাদি । কিন্তু প্রশ্ন হল ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান গুলি সুন্দর ভাবে এলাকার জনগণ রাখবে তু! মরহুম এর মত – এ রকম মানবিক সমাজ সেবক দেশের জন্য শুধু গর্বও নয়,বরণ জনগণের ভবিষ্যৎ মান-উন্নয়নে পদ-দ্রষ্টা। যিনি নিজের বা পরিবারের স্বার্থে কিছু করেন নি, করছেন দেশ ও জনগণের কল্যাণের স্বার্থে, মানব জাতির স্বার্থে। আমরা অনেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক মরহুম এর পরিবার বংশধর সম্পর্কে সার্বিক অবগত। কিন্ত বিবেকের তাড়নায় মরহুম এর মৃত্যু বার্ষিকীতে কিছু লিখতে ইচ্ছে করলো। আমরা নিজের স্বার্থে করি কিন্তু মরহুম এক জন অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে মানুষের কল্যাণের জন্য এত কিছু করেছেন যাহা ভাষায় বলা যায় না।বিশেষ করে এই সমাজকর্মীর জন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ওই এলাকায় নারী সমাজ কারণ তারা অনেকেই এখনো ভাবতে পারেন না যে মানবতার সমাজকর্মী মরহুম মোহাম্মদ মহিবুল হক আর নেই। যাহা না দেখলে হয়তো বোঝার কোন উপায় নেই বা ছিল না। মরহুমের মৃত্যু খবরে কত নারী-পুরুষের চোখে পানি জরেছে তাহা না দেখলে বুজার উপায় তখন ছিল না যা এখন ও মানুষ স্মরণ করেন। বেগম রাবেয়া মেমোরিয়াল হাইস্কুলের মাঠে মরহুমের কফিন জানাজার জন্য রাখা হলে জানাজাস্থলে বিভিন্ন গ্রাম হতে আসা শুভাকাঙ্খী ,এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন ও সুধীজন। তাহারা উপস্থিত হন জানাজার নামাজ আদায় করার জন্য। মরহুম মোঃ মহিবুল হক ১৯৬৩ সালে এসএসসি পাস করে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় এলাকায় সমাজসেবায় প্রবেশ করেন। তৎকালীন সময়ে উক্ত সতর বাড়ী গ্রামে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ জনগণের পরামর্শ ক্রমে উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৮ সালে তার বড় বোন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মরহুম আব্দুল মোনেম খান এর সহধর্মিনী মরহুমা রাবেয়া আক্তার খানম-এর নামে প্রতিষ্ঠা করেন বেগম বাবেয়া মোমোরিয়াল হাই স্কুল। মরহুম মোঃ মহিবুল হক ১৯৬৯ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সহধর্মিণী তৎকালীন সময়ে মরহুমা উম্মে হাবিবা পরলোক গমন করেন এবং মৃত্যু কালে মরহুমা চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে চির নিদ্রায় গমন করেন। পারিবারিক কর্মকান্ড হতে অনুমান করা যায় পারিবারিকভাবে মরহুম খুবই সুখী ছিলেন। শুধু পারিবারিক নয় গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে যার সহযোগিতার ছোঁয়ার সুনাম, রয়ে আছে যাহা বিশেষ করে সতর বাড়ী গ্রামের মানুষের গর্ব। সে ছুয়ায় মরহুম আজ গফরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দল মত নির্বিশেষে গোলাপের মতো মানুষের অন্তরে প্রস্ফুটিত। মরহুমের সহধর্মিনী মরহুমা উম্মে হাবিবা পরলোক গমনের পর মরহুম মোঃ মহিবুল হক দ্বিতীয় বার আর কোনো সংসারে আবদ্ধ হননি। তার মৃত মায়ের মতো খালা যিনি মরহুমের এই সংসারটিকে টিকিয়ে রেখেছেন তার নাম ‘খাদিজা বিনি’ তিনি ও ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে কন্যা। তিনিও এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুত্রের আশা পূরণ ও আত্মার শান্তির জন্য অর্থ সম্পদ দান করেছেন। তিনি সতর বাড়ী আখতারুজ্জামান দাখিল মাদ্রাসার একজন সম্মানিত দাতা সদস্য ছিলেন। মরহুম মোঃ মহিবুল হক-এর সমাজসেবার কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে আছে গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তিনি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সতরবাড়ী আখতারুজ্জামান হাফিজিয়া ও ফোরকানীয়া মাদ্রাসা, অত্র প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সাবেক শিক্ষা সচিব মরহুম সফিউল আলম এবং উনার সহধর্মিনী মরহুমা সুফিয়া আলম।মরহুম এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সতর বাড়ী বাজার। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মরহুম আব্দুল মোনায়েম খান এর সুযোগ্য পুত্র যিনি তৎকালীন সময় বিমান দুর্ঘটনায় পরলোকগমন করেন তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সতর বাড়ী আখতারুজ্জামান দাখিল মাদ্রাসা। উক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও একান্ত সহযোগী ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক শিক্ষা সচিব মরহুম শফিউল আলম ও উনার সহধর্মিনী মরহুমা সুফিয়া আলম। মরহুম অনেক ত্যাগ, অর্থ সম্পদ সময়, শ্রম ব্যয় করে এলাকাবাসীর শান্তির জন্য প্রতিষ্ঠা করেন লংগাইর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, আরো করছেন পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় এর অধীনস্থ কৃত্রিম প্রজনন অফিস, এলাকা বাসীর মঙ্গলার্থে সকলের সমর্থনে প্রতিষ্ঠা করেন বাজার, প্রতিষ্ঠা করেন বিভিন্ন অফিস এর কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য একটি পঞ্জাখানা মসজিদ। এ ছাড়া গফরগাঁও উপজেলার উস্থী ইউনিয়ন এর তেরশ্রী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় করার জন্য ও সহযোগিতা করেন, আরও করেন তেরশ্রী ফোরকানীয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ এর মধ্যে ও মরহুম মোঃ মহিবুল হক এর বিশেষ অবদান রয়েছে। তবে বহু প্রতীক্ষিত গফরগাঁও উপজেলার মহিলা কলেজকে এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে মরহুম এর অবদান মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন ভালো জানেন। এ ক্ষেত্রে মরহুম তাহার ভাগ্নীর জামাতা সাবেক শিক্ষা সচিব মরহুম সফিউল আলম এর মাধ্যমে অত্র মহিলা কলেজ এম পি ও ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন। শিক্ষা সচিব হওয়ার পর তিনি অত্র কলেজ টি এম পি ও ভুক্ত করার সুপারিশ করেন। এ ছাড়া গফরগাঁও সরকারী কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যান্য সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তি বর্গের মধ্যে ছিলেন তথা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এর গভর্নর মরহুম আব্দুল মোনায়েম খান। তিনি গফরগাঁও সরকারী কলেজ এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, এ ছাড়া ময়মনসিংহ শহরে ময়মনসিংহ জেলার মানুষের কল্যাণে তৎকালীন সময়ে গভর্নর থাকাকালীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। অর্থাৎ মরহুম মোনেম খান পরিবার বর্গের বিশেষ অবদান ময়মনসিংহ জেলা ও গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রয়েছে। তবে সতর বাড়ী গ্রামের মানবতার সেবায় মানবের সামান্য সহযোগিতায় আজ আলোকিত উক্ত গফরগাঁও মহিলা কলেজটি। অত্র প্রতিষ্ঠান টি গফরগাঁও উপজেলাবাসীর নারী সমাজের জন্য সুন্দর সুশিক্ষার মাইলফলক হিসেবে বিস্তার লাভ করবে। তদুপরি মরহুম এর ব্যক্তিগত সততা, নিষ্ঠা, অর্থ, শ্রম, শিক্ষা বিস্তারের স্বীয় অবদান নানা জনহিতকর সমাজ সেবায় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের সুখে দুখের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন মরহুম মোঃ মহিবুল হক। মরহুম এর মাঝে ছিল মানবিক গুণ, গফরগাঁও থানার বিভিন্ন সামাজিক অঙ্গনে তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অপ্রতিরোধ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। যদিও এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করতে স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বাধাকে উপেক্ষা করে এসব অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে সরকার, স্থানীয় নিরীহ ও নিঃস্বার্থ জনগণের সাহায্য সাহাযুগীতার ফলে। হইত আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করতে চায় তাদের বিন্দু মাত্র লজ্জা নেই, এবং যে নাকি সত্যকে প্রকাশ করতে পারে না, সে ই প্রকৃত দুর্বল। তবে সত্যের খয় নেই। আবার তারাই অস্বীকার করে যাদের ব্যক্তি গত বা পরিবারে কোনো বিন্দু মাত্র সাহায্য সহযোগিতাটুকুও নেই। কিন্তু নিরীহ জনগণ প্রকৃত ভাবে মরহুম মোঃ মহিবুল হক এর এক সত্যকে অন্তরে গোলাপের মতো প্রস্ফুটিত করে আঁকড়ে ধরেছেন বলে বিশ্বাস করি এবং রক্ষা করে রাখবে মরহুম এর করা প্রতিষ্ঠান গুলি। যার অবদানে এলাকাবাসী অন্ধকার থেকে আজ আলোর মুখ দেখে বর্তমানে সৎকর্মে উপার্জন করে জীবন-যাপন করতে সক্ষম হয়েছে। কখন ও কোন পরিস্থিতিতে মরহুম চাঁদাবাজ, মামলাবাজ, সন্ত্রাসীচক্রের কাছে মাথানত করেননি। গফরগাঁও থেকে কান্দিপাড়া সহ সতর বাড়ী এলাকায় বিদ্যুৎতায়নে অন্যতম সহযোগী তিনিই যিনি মাত্র তিনমাস সময়ের মধ্যে অসম্ভবকে সম্ভব করে বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়ন করেন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এর সাবেক সচিব মরহুম সফিউল আলম। আজ গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত, যাহা সত্যিই গর্বের বিষয়। গফরগাঁও দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ এখন আলোকিত। মরহুম এর বিভিন্ন অবদান যাহা কলমের কালিতে ও মানব জাতির অন্তরে, লেখা আছে এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, লেখা আছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে। এছাড়াও লিখা আছে বিভিন্ন কাগজের পাতায়। উক্ত গ্রামের বিভিন্ন ছোট রাস্তা-ঘাট মরহুম নিজ সাহায্য সহযোগিতায় নির্মিত করেছেন । সতর বাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগের শিক্ষা ভবনটি ও সাবেক শিক্ষা সচিব মরহুম শফিউল আলম-এর সহযোগিতায় সরকারি অনুদানে স্থাপন করতে মরহুম সাহায্য সহযোগিতা করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সহযোগী ছিলেন সাবেক শিক্ষা সচিব মরহুম শফিউল আলম ও তার সহধর্মিণী মরহুমা সুফিয়া আলম। শুধু তাই নয় বিগত ২৫ বছর পূর্বে গফরগাঁও থানাকে বিভক্ত করে সতরবাড়ী, মলমল, দক্ষিণপাড়া গ্রাম নিয়ে একটি মধ্যস্থ স্থানে উক্ত থানার ৬টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নতুন একটি খানা গঠনের জন্য মরহুম তৎকালীন সময়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই উদ্যোগের ফলে নতুন থানা বাস্তবায়নের ফাইলটি পূর্বেই তদন্ত সাপেক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রক্ষিত আছে। বর্তমান যাহা পাগলা থানা নামে অনুমোদিত।মরহুম মোঃ মহিবুল হক ১৯৯৫ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সাবেক শিক্ষা সচিব ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ ঢাকায় এক অনারম্বর অনুষ্ঠানে একজন সৎ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসাবে আখ্যায়িত হয়ে একটি সম্মাননা স্ক্যাচ উপহার পান। এছাড়াও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাংলার সঙ্গীত- ঢাকা এর সম্মাননা পদক ও ভূষিত হন এ ছাড়া অনন্যা এন্টিড্রাগ মুভমেন্ট এওয়ার্ড, ঢাকা হতে সম্মাননায় ভূষিত হন। মরহুম মোঃ মহিবুল হক কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। সকল দলের সাথে ছিল তাহার সু সম্পর্ক। মরহুম গফরগাঁও উপজেলার সকল দলের সকল শ্রেণির নেতাকর্মী, প্রতিনিধি, সকলশ্রেণীর পেশার মানুষ এর সঙ্গে মরহুম এর ছিল সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। গফরগাঁও উপজেলার সকল রাজনৈতিক দলের সাবেক সংসদ সদস্য, নেতাকর্মী, ইউনিয়ন প্রতিনিধি প্রত্যেকের নিকট মরহুম একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত ছিলেন। মরহুম এর ১২ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে রহিল শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আল – আমিন যেন মরহুম কে জান্নাত দান করেন। আমিন।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ