বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিলবোর্ডের বাতিও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ রায়গঞ্জে বসতবাড়ী পুনঃ নির্মানে বাঁধা প্রদান ও উচ্ছেদের পায়তারা রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা ফুটপাত অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া বাস ডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ গফরগাঁও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর পদোন্নতি রায়গঞ্জে হত্যা উদ্দেশ্য রাস্তা অবরোধ করে ব্যাবসায়ী পিতা পুত্রকে মারপিট, থানায় মামলা, গ্রেফতার ১ রায়গঞ্জে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপি ও এলাকাবাসীর কর্মসূচি গফরগাঁও ভূ‌মি অ‌ফি‌সের দুনী‌তির অ‌ভি‌যোগ জাতীয় রিলস বিজয়ী ইমন সাদীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘খেয়া’: স্বপ্ন এখন রুপালি পর্দায় যশোরের সংরক্ষিত নারী আসনে রাজপথের ‘অগ্নিকন্যা’ অ্যাডভোকেট মুক্তিকে চায় এলাকাবাসী

রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা ফুটপাত অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য

প্রতিবেদকের নাম
add

নিজস্ব প্রতি‌বেদক:  রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে খিলগাঁও তালতলা মার্কেট সহ খিলগাঁও চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায় ফুটপাত দখল করে হকারদের অবাধ বাণিজ্যের বিষয়টি জনজীবনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।

ফুটপাত দখল করে কাপড়, জুতা, কসমেটিকস ও ঘরকন্নার নানা সামগ্রীর দোকান বসানোর ফলে পথচারীদের মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এতেকরে পথচারীদের ভোগান্তি দিন দিন আরোও তীব্রতর হচ্ছে।সেই সাথে তালতলা মোড়ে আলআকসা রেষ্টুরেন্ট ও মাসালা কাবাব এর সামনের ফুটপাত স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই দুই রেষ্টুরেন্টের মুরগি পোড়ার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত সহ চলাচলে জন সাধারণদের বিভিন্ন সমস্যা চোখে পরার মত।

সিটি কর্পোরেশনের পদক্ষেপ অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC) সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ২০ মার্চ ২০২৬-এ ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের যোগসাজশে ফুটপাত বরাদ্দের বিনিময়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, যা ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালতলা মার্কেটের অভ্যন্তরীণ দখলের মূলে তালতলা সিটি সুপার মার্কেটের ভেতর ও সামনের জায়গাগুলো মূলত ইজারা বা বরাদ্দ ছাড়াই হকারদের দখলে চলে গেছে। উৎসবের মৌসুমে (যেমন আসন্ন ঈদ) এই দখলদারিত্ব আরও প্রকট হয়, কারণ স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র সাময়িকভাবে দোকান বসানোর সুযোগ দিয়ে চাঁদা আদায় করে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় তালতলা মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এই সুযোগে হকাররা ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তার অংশও দখল করে নিয়েছে, যা যানজটকে আরও তীব্র করেছে।ঈদকে সামনে রেখে, যা মানবিক কারনে উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।

এবং স্থানীয়দের দাবি ঈদ পরবর্তি সময়ে যেন তারা না বসতে পারে সে বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উত্তর সিটি কর্পোরেশন, আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তার প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উত্তরের বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও রয়েগেছে চৌধুরপাড়া থেকে খিলগাঁও চৌরাস্তা পর্যন্ত ফুটপাত এবং তালতলা সিটি সুপার মার্কেটের ভিতরের হকারদের দখলে থাকা দোকান পাট।

এ নিয়ে বিগত সময়ে কয়েকবার সিটি কর্পোরেশন মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও স্থায়ী তদারকির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবং খিলগাঁও তালতলা একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় উচ্ছেদকারী দল চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবার তাদের জায়গা দখল করে নিচ্ছে।

অনুসন্ধ্যানে উঠে আসা চৌধুরীপাড়া থেকে খিলগাঁও তালতলা এবং চৌরাস্থা পর্যন্ত ফুটপাত দখলের পেছনে চাঁদাবাজির এই চিত্রটি বর্তমানে একটি ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই এলাকায় চাঁদাবাজির ধরনে কিছু পরিবর্তন আসলেও ভোগান্তি কমেনি।

সাম্প্রতিক তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে এসকল চাঁদাবাজির নেপথ্যের কারণে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেক লাইনম্যান এলাকা ছাড়া হলেও, তাদের জায়গা দখল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নামধারী কিছু স্থানীয় নেতা-কর্মী।

তারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে ‘বসার খরচ’ বা ‘সেলামি’ আদায় করছে।

থানার নীরব ভূমিকায় রামপুরা থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা এই অবৈধ দোকানগুলো থেকে নিয়মিত ভাগ পান। ফলে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার বিঘ্ন ঘটলেও পুলিশ কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে না।

লাইনম্যান প্রথায় বর্তমান ঢাকা উত্তর রামপুরা ২৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপির নেতা রনি এবং তালতলা ফুটপাতে জুতা ব্যবসায়ী বরিশাইল্লা ঈমাম বিশেষকরে রামপুরা ফাঁড়ি ইনর্চাজ টি আই সার্জেন্ট কবির হোসেন সহ থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং এলাকার উঠতি নেতাদের ভাগের চাঁদা সংগ্রহের দ্বায়ীত্ব পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেইসাথে তালতলা প্রধান সড়ক ও মার্কেটের ফুটপাতের প্রতিটি ফুটের দোকানের অবৈধ বিদ্যুত সংযোগের ক্ষেত্রে লাইনম্যান মার্কেটের বিদ্যুত কর্মকর্তা সিপন এবং মার্কেট জেনারেটর নাসির এর নাম রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে তালতলা মার্কেটের অভ্যন্তরীণ দখলে রয়েছেন শীর্ষ চাঁদাবাজ অঘোষিত মার্কেট কমিটির কর্মকর্তা ঢাকা উত্তর রামপুরা ২৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপি পরিচয়দানকারী নেতা শেখ আলম ও তালতলা মার্কেট বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বড়মিয়া সিটি সুপার মার্কেটের ভেতর ও সামনের অংশে দলের নাম ভাঙিয়ে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও বর্তমানে বেশ আলোচিত।

এই অশুভ আঁতাতের কারণেই সিটি কর্পোরেশন মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবার ফুটপাত দখলে নিয়ে নেয়। সাধারণ নাগরিকরা এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য আবারও স্থানীয় সংসদ সদস্য, উত্তর সিটি কর্পোরেশন, আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তার তদারকি দাবি করছেন।

এই সমস্যা দ্রুত সমাধানে খিলগাঁও ও চৌধুরীপাড়া উভয় অংশের জন্য DNCC ও DSCC-এর যৌথ বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান প্রয়োজন বলে স্থানীয় বাসিন্দা সহ তালতলা সিটি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ