শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চাঁদপুরে মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত বেসরকারি এতিমখানায় ১৪০ কোটি টাকার সরকারি ভাতা অনুমোদন হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন, সৌদিতে মৃত্যু ৫৪ বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের প্রস্তুতি পাকিস্তানের দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে ৬-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিল কানাডা

হরমুজ প্রণালি খুলতেই কমল জ্বালানি তেলের দাম

নিউজ ডেস্ক ঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বহুল আলোচিত ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে পুনরায় তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির এই উজ্জ্বল সম্ভাবনায় আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। খবর রয়টার্সের।

আজ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৪৩ সেন্ট বা ০.৫৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৭৯.৪২ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১৭ সেন্ট বা ০.২২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৬.৪৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বাজারে আরও বেশি সক্রিয়ভাবে লেনদেন হওয়া আগস্ট মাসের ডব্লিউটিআই চুক্তিটির দাম ৩০ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৭৫.৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুই বেঞ্চমার্কেরই দাম গত মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনটি সৌদি আরবের পতাকাবাহী জাহাজসহ (যা ৬ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড বহন করছিল) বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮৫ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল বিশ্ববাজারে চলে আসবে। এছাড়া ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার কারণে বাজারে সরবরাহ আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বাজারের দাম আরও বড় পতনের দিকে যাওয়ার আগে ব্যবসায়ীরা মূলত এটি নিশ্চিত হতে চাইছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল সত্যিই স্বাভাবিক হচ্ছে কি না। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি স্থায়ী হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই রুটের বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও রপ্তানি পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন জারি করা সমস্ত ‘ফোর্স মজিউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি জনিত জরুরি অবস্থা) নোটিশ তারা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের জ্বালানিমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, তাদের তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন শুরু করতে প্রস্তুত। তেল সরবরাহ ধাপে ধাপে আগের স্বাভাবিক হারে ফিরে আসবে।

তবে বিশ্ববাজারে তেলের এই দরপতনের মধ্যেও কিছুটা শঙ্কা রয়ে গেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এছাড়া বাজারে আরেকটি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আজ সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি হঠাৎ বাতিল করার ঘটনা। তেল বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি এই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, ভূ-রাজনৈতিক এই পটভূমিটি হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট পুনরায় স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বাজারকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ