১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহ বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘদিন পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত একটি হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন সম্প্রতি করাচিতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আরব সাগরের বাইরে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত নিজেদের সামুদ্রিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর বহর কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, এই সাবমেরিনগুলো ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
চীন থেকে দেশে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক নতুন সাবমেরিনকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এ মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইসলামাবাদ কেবল উপকূলীয় নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ মূলত ভারতের সঙ্গে নৌ-প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক শক্তির ভারসাম্যে তাদের এগিয়ে রেখেছে।
তবে ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন না আনলেও, এটি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একই সঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’-এর হাতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে সতর্ক করেছে যে, নতুন সাবমেরিন মোতায়েনের ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।