বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫ জনের প্রাণহানি লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর প্রাণহানি: বাড়িতে ডেকে নিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায় রাষ্ট্রপতি: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪৬, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বিইআরসির শুনানিতে আজ নজর জ্বালানি ও রেল খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন ভোটের শঙ্কা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, প্রভাব ফেলছে তেলের দর

বাস্তবায়ন হবে তো: আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার

প্রতিবেদকের নাম

সরকার ২০২৬ সালের এপ্রিলের দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রস্তুতি শুরু করলেও বিদেশে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবাসীর ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। প্রবাসীরা মনে করেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সত্ত্বেও ভোটাধিকারের আইনি কাঠামো থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ অধরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এবার তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রবাসীরা বলছেন, তারা রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও এর স্বীকৃতি মিলছে না। এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যে পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে তারা ভোট দিতে পারবেন বলে প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তারা। যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন, এমন কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হলে তারা জানান, প্রবাসীরা বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ—সবক্ষেত্রেই বিশাল অবদান রেখেছেন। শুধু রেমিট্যান্স নিচ্ছে সরকার, কিন্তু প্রবাসীদের অধিকার বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়।’।

যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের মতে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। কিছু দেশ তো সংসদে প্রবাসীদের জন্য আসনও সংরক্ষণ করেছে।

তাদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরির সুযোগ। এলএসসিআই-এর চেয়ারম্যান এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে-র আহ্বায়ক নাসরুল্লাহ খান জুনায়েদ জানান, প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর ভোটাধিকার ৫৫ বছর ধরে ঝুলে আছে। তার তথ্যমতে, প্রবাসীরা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ এবং প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ভোটার হতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত, মালদ্বীপ ও ভুটানের মতো দেশগুলো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে এবং অনেক দেশে প্রবাসীদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবু তাদের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও নেই কোনও কার্যকর ব্যবস্থা।

ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তিনি বলেন, ওয়য়ান-ইলেভেনের সময় সেনাসমর্থিত সরকার উদ্যোগ নিলেও আইনি জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী নির্বাচন কমিশনগুলোও এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, এবারই সময় এসেছে সকল জটিলতা দূর করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করার।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিশ্চিত করেছেন, এবারের নির্বাচনে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালটের সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবারের ভোটগ্রহণে ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এতে ভোটাররা তাদের অবস্থান থেকে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পাবেন। আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে সশরীরে আবেদনের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা পরিবর্তন করে ব্যালট ছাপানোর সাথে সাথে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতে পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে, দেশ তার নাগরিকদের প্রতি তাদের অবস্থান নির্বিশেষে— গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে প্রস্তুত কিনা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে—যে ব্যালটটা পাঠানো হতো ভোটারের কাছে, সেটা প্রথমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যেতো তারপর তিনি পাঠাতেন।

প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যালট নষ্ট বা ওয়েস্টেজ রেট কমানোর বিষয়ে কমিশনার জানান, বিশ্বব্যাপী এর হার প্রায় ২৪ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের মতো বিস্তৃত প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সব প্রার্থীর মার্কা ছাপিয়ে ভোট গ্রহণের দুই মাস আগেই পাঠানোর একটি প্রস্তাবনা টেকনিক্যাল কমিটিকে পুনরায় পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে আমাদের একজন কমিশনারের কাছ থেকে আরেকটা সিদ্ধান্ত এসেছে, আমরা যদি সব মার্কা শুধু ছাপিয়ে দুই মাস আগেই পাঠিয়ে দেই এবং চূড়ান্ত মার্কাতে যদি শুধু ভোটটা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে হয় কিনা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি টেকনিক্যাল কমিটি আবার এটা রিভিউ করুক।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। ইসি সানাউল্লাহ আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রক্সি ভোট দেওয়ার পদ্ধতি থেকে কমিশন সরে এসেছে। নতুন অনলাইন ও পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি পোস্টাল ব্যালট ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০০ টাকা ব্যয় হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। অনলাইন পদ্ধতির ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ