বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫ জনের প্রাণহানি লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর প্রাণহানি: বাড়িতে ডেকে নিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায় রাষ্ট্রপতি: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪৬, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বিইআরসির শুনানিতে আজ নজর জ্বালানি ও রেল খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন ভোটের শঙ্কা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, প্রভাব ফেলছে তেলের দর

মধ্যরাতেও ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা, দায়ী ব্যাটারিচালিত যানবাহন: জ্বালানিমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে রাত ১২টার পরও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সময়কে পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু এখন মধ্যরাতেও বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পর্যায়ে থাকছে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে তিনি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোকে চিহ্নিত করেছেন, যেগুলোকে তিনি ‘গরিবের টেসলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। এসব যানবাহন চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত অধিকাংশ সংযোগই অবৈধ বা অননুমোদিত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অননুমোদিত সংযোগ চিহ্নিত করে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং হামলার শিকার হচ্ছেন। তিনি বর্তমান সংকটকে সাময়িক উল্লেখ করে বলেন, সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।

জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিক। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। শিল্প খাত ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্যদিকে, সিপিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি ১২০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) পর্যন্ত পৌঁছেছে। গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খাতের অচলবস্থার অন্যতম কারণ।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ