শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আটক, কারাগারে প্রেরণ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেক্ষাপট: নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী রাজধানীর বাজারে তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দা ও নিত্যপণ্যের দাম কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত, দেশে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেক্ষাপট: বিতর্কিত ধারা বাতিল করে সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন কাঠামোয় এসআরবি বিল পাস সংসদে র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে পাস রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারালেন নান্দাইলের আল মামুন

প্রেক্ষাপট: বিতর্কিত ধারা বাতিল করে সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস

প্রতিবেদকের নাম

জাতীয় সংসদে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। বিলটি পাসের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

ধারা বাতিলের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য

বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন যে, সরকার কেন এই ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো প্রদানের উদ্দেশ্যেই মূলত ১৮(ক) ধারাটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়ন না করে সরকারি কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ কমানো।

কঠোর শর্ত ও কার্যকারিতার অভাব

  • ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৮(ক) ধারায় দুই পৃষ্ঠা জুড়ে অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল।
  • আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নির্ধারিত সেসব কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আবেদন করতে এগিয়ে আসেননি।
  • এই ধারার অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও সুযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
  • পরবর্তীতে এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার ধারাটি বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

আইনি বিবর্তন ও সংসদীয় আহ্বান

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে ১৮(ক) ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় এই ধারাটি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সংশোধনী বিলের সঙ্গে সংযুক্ত উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, যেহেতু ধারাটি তার উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং কোনো আবেদনকারী পাওয়া যায়নি, তাই এটি বহাল রাখা আর সমীচীন নয়।

সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আইন প্রণয়নের মূল কাজের ওপর কঠোরভাবে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বিলটি পাসের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের আইনি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এল, যা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংশোধনী এখন থেকে কার্যকর হবে এবং ১৮(ক) ধারার অধীনে থাকা সব আইনি বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ