শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেক্ষাপট: নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী রাজধানীর বাজারে তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দা ও নিত্যপণ্যের দাম কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত, দেশে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেক্ষাপট: বিতর্কিত ধারা বাতিল করে সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন কাঠামোয় এসআরবি বিল পাস সংসদে র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে পাস রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের প্রলোভনে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারালেন নান্দাইলের আল মামুন ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে পাস

প্রতিবেদকের নাম

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। নতুন এই ইউনিটের লক্ষ্য হিসেবে দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসআরবির সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে এবং এর নেতৃত্বে থাকবেন একজন মহাপরিচালক, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। সরকার পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে।

বিলের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউনিটটি মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমিদস্যুতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকলেও এসব ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে রাখা যাবে না; বরং অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

আইন পাসের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। বিরোধী সদস্যরা বিলের ওপর সাতটি আপত্তি ও নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেন। তাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো, কার্যকর স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এসআরবি র‌্যাবেরই নতুন সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা র‌্যাবের জনবল, সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ এসব নথি গুমসহ গুরুতর অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটির গঠন নিয়েও বিরোধী সদস্যরা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কমিটির নেতৃত্বে এসআরবির নিজস্ব কর্মকর্তারা থাকায় এর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি গঠন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বার কাউন্সিল ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিনিধিত্ব রাখার দাবি জানান। এছাড়া বেসামরিক ব্যক্তিকে আটকের সময়সীমা নির্ধারণ এবং বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়েও তারা স্পষ্ট বিধানের দাবি তুলেছিলেন।

শৃঙ্খলা ও শাস্তির বিষয়ে বিলে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত, অনুমতি ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। শাস্তিস্বরূপ বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের মতো ব্যবস্থা নেয়া যাবে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া কোনো সদস্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে।

আটকের ক্ষেত্রে বিলে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের যৌক্তিক কারণ থাকলে সদস্যকে আটক করা যাবে। তবে কোনো সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে হবে এবং প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিলে উল্লেখ থাকলেও এর মানদণ্ড ও মেয়াদ পরে বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। বিরোধী সদস্যরা প্রশিক্ষণ সনদ ছাড়া ফৌজদারি তদন্তের ক্ষমতা না দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানগুলো রহিত হবে এবং র‌্যাবের যাবতীয় জনবল, সম্পদ, তহবিল ও দায়-দেনা এসআরবিতে হস্তান্তরিত হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের প্রস্তাব দেয়া হয়। চাকরির আরও তথ্য: বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’ সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী, পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিট গঠন করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৩ ধারায় ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শৃঙ্খলা লঙ্ঘন ও শাস্তি: বিলের ১৭ ধারায় কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ, অনুমতি ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে পালানো এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত হওয়াও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ