নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম হাঁকিয়েও সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা, অন্যদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হচ্ছে পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে সমস্যা আমাদের চরম ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে।’।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অথচ রূপগঞ্জের বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার বর্তমানে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে একজন ক্রেতাকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩৬৩ থেকে ৪৬৩ টাকা বা তারও বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ তাঁরা ১ হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা সজীব আহম্মেদ জানান, পাইকারি পর্যায়েই তাঁদের ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় চূড়ান্ত দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে রসিদ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সজীব বলেন, রসিদ চাইলে তারা সিলিন্ডার সরবরাহ করতে রাজি হয় না। এতে সংসারের ব্যয় বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক রান্নাবান্না। ফ্ল্যাট বাসায় লাকড়ি-খড়ি দিয়ে রান্না করার সুযোগও নেই।
ডিলারদের দাবি, কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফ্রেশ গ্যাসের ডিলার সালমান এন্টারপ্রাইজের মালিক জানান, সিলিন্ডারপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা লাভে তারা ব্যবসা করছেন, বাকি দাম খুচরা ব্যবসায়ীদের নির্ধারণ করা। এদিকে তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, চলতি মাসের ১ তারিখের পর থেকে তাদের কাছে আর নতুন কোনো সরবরাহ আসেনি। তিনি ১ হাজার ৯৫০ টাকার বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সব ডিলার বাড়তি দাম নিচ্ছেন না। তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, গত মাসের ১১ তারিখে কিছু সিলিন্ডার পেয়েছিলেন।
এই গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলো বিকল্প জ্বালানি না পেয়ে বাড়তি দামেই গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। গৃহিণী আলেয়া বেগম জানান, স্বামীর সীমিত আয়ের সংসারে সিলিন্ডারের এই বাড়তি দাম বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রোকেয়া বেগম নামের আরেক গৃহিণী জানান, কয়েক দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও দিতে হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। চা-দোকানি সেলিম মিয়া জানান, রান্নার গ্যাসের খরচ বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তার লাভের অংশ কমে যাচ্ছে। দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন।’।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহান। তিনি জানান, বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।