১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭-এ অংশ নেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। রসায়ন অনুরাগী শিক্ষার্থীরা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। এতে ঢাকা শহরসহ দেশের আটটি বিভাগের ১৫টি অঞ্চলের কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক ও এ লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭-এ অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়েছে।
অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট গুগল ফরম কিংবা বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির ওয়েবসাইটে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে আগ্রহীরা নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। ফি হিসেবে ঢাকা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আগামী ৩১ অক্টোবর দেশের ১৫টি অঞ্চলে একযোগে প্রাথমিক পর্বের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক পর্বের উত্তীর্ণদের নিয়ে ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব। এই পর্বের বিজয়ীরা পরবর্তীতে তাইওয়ানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। প্রাথমিক পর্বে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবেন।
১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে রসায়ন অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের উপযুক্ত হিসেবে তাদের গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমিনুল হক জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মানজনক আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। এইচএসসি ও সমমান বোর্ড পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা যাতে বৈশ্বিক মঞ্চে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে কথা মাথায় রেখেই এবার প্রতিযোগিতার সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। চূড়ান্ত বিজয়ীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে ৩ থেকে ৪ মাস নিবিড় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। এবার একটি পদক পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম লুৎফর রহমান উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশীয় শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা প্রমাণের একটি বড় ক্ষেত্র হলো রসায়ন অলিম্পিয়াড। এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়ন চর্চার প্রতি আগ্রহ গভীর হয় এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি সহজ হয়। আগামী আন্তর্জাতিক আসর থেকে বাংলাদেশ একটি পদক অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।