অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান, ধরপাকড় এবং ফিলিস্তিনিদের স্থাপনা ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেথলেহেম, জেনিন, রামাল্লাহ, কালকিলিয়া ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে পরিচালিত অভিযানে মোট ২৩ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে রামাল্লাহর পশ্চিমে অবস্থিত বেইত সিরা গ্রামের ১৬ বছর বয়সী আহমেদ থায়ের আত্তা আল-হাজ্জ নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরও রয়েছেন।
অভিযান চলাকালে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন ১২টি গুদাম ও কৃষি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এর মধ্যে তুবাসের পূর্বে ইরজা এলাকায় ৬০ বর্গমিটার বা প্রায় ৬৪৬ বর্গফুট আয়তনের একটি কৃষি স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি নেই—এমন অজুহাতে ভারী যন্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তায় একটি স্কুল ও বেশ কিছু বাড়িঘর ধ্বংসের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে বসতি স্থাপনকারীদের একটি অভিযানের সময় প্রতিরোধ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন ফারুক রমাদান। মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনী তার বাড়িটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। একই দিনে নাবলুসের কাছে বুরকা শহরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
এদিকে নাবলুসের কাছে কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ঢুকে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। আওয়ার্তা এলাকায় ধর্মীয় উপাসনাস্থলগুলোর কাছেও তারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর এই ধারাবাহিক ধরপাকড় ও স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ সত্ত্বেও অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলি বাহিনীর এমন আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
তিনি প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে ওয়াফা।
৬০ বর্গমিটার বা প্রায় ৬৪৬ বর্গফুট আয়তনের ওই স্থাপনাটি নির্মাণের অনুমতি না থাকায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।