সংগীত ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভাবনীয় জনপ্রিয়তার সাথে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের স্বাদ পেয়েছিলেন সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’-তে অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করার পর তার জীবনে আসে দ্রুত উত্থান। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে নোবেল জানান, প্রতি মাসে তার আয় ছিল ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকার মতো। মাত্র ২৪-২৫ বছর বয়সেই হাতে এত টাকা ও খ্যাতি আসায় নিজেকে সামলাতে হিমশিম খেয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকা জমার সেই অস্থির সময়ে অর্থ তার চিন্তাভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে নোবেল বলেন, ‘আমি “সারেগামাপা”য় যখন জনপ্রিয়তা পাই, দুহাতে টাকা আসতে থাকে।
গানের সাথে নোবেলের সখ্য অবশ্য অনেক আগের। ছোটবেলায় বাবার আনা ক্যাসেট শুনে আইয়ুব বাচ্চু, জেমস ও হাসানের গানের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ওস্তাদের কাছে প্রশিক্ষণ না নিলেও ২০১৬ সালে গানকেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজের ব্যান্ড গড়ে নিয়মিত চর্চা শুরু করেন। ‘সারেগামাপা’র সাফল্যের পর তিনি মৌলিক গান ও চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকেও মনোনিবেশ করেন, তবে গানের বাইরের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি।
অতীতের সেই বেখেয়ালি জীবনের কথা স্বীকার করে নোবেল বলেন, সেই সময় টাকা তাকে অস্থির করে তুলেছিল। তবে বর্তমানে সেই জীবনধারা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেছেন এই শিল্পী। গত ১০ মাসে নিজের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজের সন্তানের জন্মের পর থেকেই মূলত তার জীবনধারা বদলেছে।
এখন গান এবং সন্তানকে ঘিরেই তার সব ব্যস্ততা। নোবেল বলেন, বর্তমান জীবনযাপনে তিনি পুরোপুরি প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন। সন্তানের সাহচর্য তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় নেশার মতো, যাকে তিনি জীবনের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। নতুন করে দারুণ সব গানে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।