বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫ জনের প্রাণহানি লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর প্রাণহানি: বাড়িতে ডেকে নিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায় রাষ্ট্রপতি: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪৬, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বিইআরসির শুনানিতে আজ নজর জ্বালানি ও রেল খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন ভোটের শঙ্কা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, প্রভাব ফেলছে তেলের দর

আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিবেদকের নাম

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লি যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় রাজধানীতেই জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যমতে, সফরটি দুদিনের একটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। সব ঠিক থাকলে এই সফর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি খাত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পেতে পারে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি বৈঠক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবির বিষয়টি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করার পর ঢাকা তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত জানিয়েছে, এই অনুরোধটি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশই যখন সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী, ঠিক তখনই এই সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি মাত্র সফরেই সব অমীমাংসিত সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার ইস্যু, পানিবণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন পড়বে। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফর হলে তারেক রহমান ঢাকার অবস্থান সরাসরি ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যও এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে দিল্লির প্রত্যাশাগুলো জানার একটি বড় সুযোগ হবে।

সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী সপ্তাহের এই সম্ভাব্য সফরটি ভারত-বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। আপাতত উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য হলো—পরস্পরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু করা এবং জটিল সংকটগুলো যেন সার্বিক সম্পর্ককে আটকে না ফেলে, সেই পথ তৈরি করা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

সম্প্রতি দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে।

উভয় দেশের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা দীর্ঘদিনের বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক সমস্যাও রয়েছে।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ