কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায় ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার সকালের এই মর্মান্তিক ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপের সামনে এক নারীকে বারবার ‘সাইফ’ নামের একজনকে খুঁজে দেওয়ার আকুতি জানাতে দেখা যায়। স্বজন হারানোর বেদনায় তার হৃদয়বিদারক আর্তনাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই নারীর সাথে সাইফের সম্পর্ক, তার বর্তমান অবস্থা কিংবা সাইফ নিহতদের তালিকায় রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন। উদ্ধারকাজের ব্যস্ততা আর স্বজনের সন্ধানের মাঝে এই নারীর আহাজারি হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও, আমি কারে নিয়া বাঁচুম’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার এই আকুতি জানাচ্ছিলেন এক নারী। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার কণ্ঠে স্বজনকে হারানোর কষ্ট ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি দেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে আরও জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে মোট ১৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং নিখোঁজ অন্যদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, কাঠের তৈরি স্থাপনা হওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো রিসোর্টটি পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। চারদিকে পোড়া ধ্বংসস্তূপ, পুড়ে কয়লা হয়েছে সবকিছু।
ঘটনাটি সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরই রিসোর্টের ভেতরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এদিকে, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।