বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মৃত নারীকে জীবিত করার দাবিতে কবরের পাশে ওঝার ঝাড়ফুঁক

প্রতিবেদকের নাম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর ‘জীবিত’ করার দাবি তুলে কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করেছেন গাজী মিয়া নামের এক ওঝা। গত শনিবার উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হাসনা বেগম (৫৮) নামের ওই নারীর কবরের এক পাশে সামান্য খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই ওঝার বাড়ি জেলার বাসাইল উপজেলার কৈলাণপুর গ্রামে।

মৃত হাসনা বেগমের বাড়ি সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর স্বজনেরা তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সাপে কাটার খবর পেয়ে গাজী মিয়া ঘটনাস্থলে এসে দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। তিনি কবরের এক পাশে সুড়ঙ্গ করে গন্ধ শোঁকেন এবং দাবি করেন যে তিনি তেলের গন্ধ পেয়েছেন। ওঝার এমন কথায় উৎসুক এলাকাবাসীও কবরের পাশে ভিড় করেন। ওঝা হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, মঙ্গলবার তিনি আবার আসবেন এবং দুর্গন্ধ না পাওয়া গেলে মরদেহ তুলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামিয়ে তাঁকে জীবিত করবেন।

ঘটনার সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, পাঞ্জাবি-লুঙ্গি পরিহিত ওঝা কবরের ওপর কিছু ছিটাচ্ছেন এবং বাঁশ দিয়ে সুড়ঙ্গ করে গন্ধ পরীক্ষা করছেন। খালেদা বেগম জানান, শুরুতে কিছুটা আশা তৈরি হলেও, ওঝা রোববার সকালে ফোন করে জানান যে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন তাঁর মা বেঁচে নেই। পরবর্তীতে পরিচয় গোপন রেখে কথা বললে ওঝা গাজী মিয়া জানান, এখন আর রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়, তিনি চলে গেছেন।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন এই ঘটনাকে হাস্যকর ও অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক কর্তৃক মৃত ঘোষিত ও দাফন সম্পন্ন হওয়া কোনো ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ওই ওঝাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা প্রয়োজন। সাপে কাটার পর কুসংস্কারে বিভ্রান্ত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ