নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি জুট মিলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত যানবাহন ও উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১২টার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. মাহতাব মৃধা (৩২), মো. লিটন প্রামাণিক (৪৬), মো. সেলিম হোসেন (৩২), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫), মো. আব্দুল খালেক (৩৪) এবং মো. সাগর শেখ (২২)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ মে গভীর রাতে লালপুর থানার অর্জুনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘সাজিদ জুট মিলস’-এ ১২ থেকে ১৪ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা মিলের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন কর্মচারীকে মারধর করে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে। পরে তারা মিল থেকে প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে একটি ট্রাকে করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত ৩০০ কেজি তামার তার, মালামাল বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ এবং একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, “ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও ডাকাত চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছে, চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলমান রয়েছে।