বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মোবাইলে আট মাস প্রেম, চিনা নাগরিক লিবিং যশোরে মেয়েকে বিয়ে করলো সময় থাকতে ভালো হয়ে যা! দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও হুমকির চিরকুট, আতঙ্কে নলডাঙ্গার একটি পরিবার যশোরে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক আটক নাটোরে প্রাইম ব্যাংকের মাসব্যাপী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন কুষ্টিয়া গড়াই নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরাদেহ উদ্ধার আত্রাইয়ে দুঃস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ আমবাড়ীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে পাওয়ার ট্রিলার মেশিন বিতরণ ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত নিখোঁজ কৃষকের সন্ধান চেয়ে যশোর প্রেসক্লাব সংবাদ সম্মেলন সংসদ সদস্য কতৃক মাগুরায় শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ গ্রামীণ জনপদে জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার পরিসর বাড়াতে গার্ডিয়ান ও বেলভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নিখোঁজ কৃষকের সন্ধান চেয়ে যশোর প্রেসক্লাব সংবাদ সম্মেলন

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরে মণিরামপুর উপজেলার গোপীকান্তপুর গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদ (৪৬) নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। দ্রুত তাকে উদ্ধারের দাবিতে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এমরান আলী মাস্টার।

লিখিত বক্তব্যে এমরান আলী জানান, গত ২০ জুন বিকালে সাড়ে ৫টার দিকে হারুনার রশিদ কেশবপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি।

পরিবারের দাবি, পরদিন ২১ জুন আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে একই দিন রাত ১১টার দিকে মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জিডির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে জানতে পারেন, হারুনার রশিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জুইখালী কামারালী এলাকার দিকে বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন পুলিশ ও স্বজনরা ওই এলাকায় গিয়ে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালালেও কোনো সন্ধান পাননি।

পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য র‍্যাব-৬-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ তাদের জানায়। র‍্যাবের সদস্যরাও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।এমরান আলী বলেন, আজ পর্যন্ত আমার ভাই জীবিত নাকি মৃত—সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য আমরা পাইনি। এখনো কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। প্রযুক্তির এই যুগে ১২ দিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছি।

তিনি জানান, হারুনার রশিদের পরিবারে স্ত্রী, এক বিবাহিত মেয়ে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা ও চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার নিখোঁজ হওয়ায় পরিবার মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, হারুনার রশিদ পাওনা টাকা আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে তার স্ত্রী দাবি করেন, বাজারে থাকা অবস্থায় একটি ফোনকল পাওয়ার পর তিনি বেরিয়ে যান এবং এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

পরিবার দ্রুত হারুনার রশিদকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হারুনার রশিদের স্ত্রী শিল্পি বেগম, বড় মেয়ে শান্তা, ছোট মেয়ে লামিয়া, ছেলে ডালিফসহ অন্যান্যরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ