জামালপুর জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় ৫১ জন প্রার্থী আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অফিস চত্বর থেকে না সরার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সরেজমিনে বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, কার্যালয়ের বারান্দায় সারি করে বসে আছেন প্রায় ২৫-৩০ জন প্রার্থী। কারো কারো হাতে ছিল নিয়োগের অপেক্ষার প্রতীকী প্ল্যাকার্ড, আবার একজনকে কাফনের কাপড় পরা অবস্থায় দেখা গেছে। অনেকের মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল এবং তারা উদ্বেগ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করছিলেন। প্রার্থীরা জানান, জামালপুর জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৬ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে সোমবার পর্যন্ত মাত্র একজন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি ৫১ জন প্রার্থী এখনো দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কারও হাতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। কিন্তু অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও আমরা এখনো পাইনি। আমাদের পরিবার তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। নিজ যোগ্যতায় এত দূর এসেও আমরা নিয়োগ পাচ্ছি না।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ পার করেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। আন্দোলনরত প্রার্থী তানভীর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগ না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দাবি করেন, দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান করা না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হবে। অপর প্রার্থী মীর আফিফা সুলতানা জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবেন না। এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে তাঁরা অনশনে বসেছেন। তাঁদের ভাষ্য, নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও চাকরিতে যোগ দিতে না পারায় তাঁরা মানসিক ও আর্থিক চাপে রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ৫১ জন প্রার্থীর নথি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই সমস্যার একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।