শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২৬৬ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্য উদঘাটন: বন্ধুর বাসা থেকে উদ্ধার নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা হলেও আদায় হচ্ছে ২০০, ময়লা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম অব্যাহত চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা আটক, কারাগারে প্রেরণ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেক্ষাপট: নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী রাজধানীর বাজারে তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দা ও নিত্যপণ্যের দাম কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত, দেশে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেক্ষাপট: বিতর্কিত ধারা বাতিল করে সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস

নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা হলেও আদায় হচ্ছে ২০০, ময়লা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম অব্যাহত

প্রতিবেদকের নাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য মাসিক ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার রসিদ দেওয়া হলেও তাঁকে অতিরিক্ত আরও ৫০ টাকা দিতে হয়, যার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। একই এলাকার আরেক বাসিন্দার তথ্যমতে, সেখানে প্রতি বাসা থেকে ১৬০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকার বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া জানান, তাঁদের এলাকায় প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। অথচ প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করা হয় না, বরং দুই-তিন দিন পরপর কর্মীরা আসেন। একইভাবে পুরান ঢাকার কায়েতটুলী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান, তাঁদের এলাকায় ১৫০ টাকা করে বিল নেওয়া হলেও সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন ময়লা নেওয়া হয়। নিয়মিত ময়লা না নেওয়ায় এখন বাসিন্দারা নিজেরাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলে আসছেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল রোড এলাকার এক বাসিন্দা জানান, তাঁদের ভবনে প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ২০০ টাকা করে ফি নেওয়া হচ্ছে।

তবে সব এলাকায় চিত্র এক নয়। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদুল আজহার পর থেকে তাঁদের এলাকায় ১০০ টাকা করেই বিল নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ কঠোর হলে নির্ধারিত ফি কার্যকর করা সম্ভব।

গত মে মাসে ময়লা বাণিজ্য নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারদের সতর্ক করেছিলেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বিল নিলে বা নিয়মিত ময়লা না সরালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদেশে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা, ১০০ টাকার বেশি ফি আদায় বন্ধ করা এবং সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) কার্যক্রম তদারকি করে প্রতি সাত দিন অন্তর প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে এই আদেশের প্রভাব তেমন দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন নিয়মিত জমা না পড়ায় কোন ওয়ার্ডে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে বা কোন প্রতিষ্ঠান শর্ত ভাঙছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি হয়নি।

অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং তদারকি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী দাবি করেন, তাঁদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। তিনি জানান, ওয়ার্ড পর্যায়ে দল গঠন করা হয়েছে এবং অনেক অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাসিন্দাদের মতে, শুধু অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলে অনিয়ম দূর করা কঠিন। রসিদের বাইরে টাকা নেওয়ায় হিসাব কাগজে থাকে না, আবার অভিযোগ করলে ময়লা নেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে চান না।

নগর-পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, এটি চাঁদাবাজি। তিনি মনে করেন, শুধু অফিস আদেশে এই বাণিজ্য বন্ধ হবে না। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা প্রতিবেদন না দিলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না, বরং সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ময়লা জমে থাকা, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘ময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কষ্টের কাজটি করেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা; কিন্তু আদায় করা টাকার বড় অংশ তাঁদের হাতে যায় না, যায় নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই খাতের নিয়ন্ত্রণকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধানমন্ডি এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–১–এর আওতায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকা উত্তরে চাঁদা নেওয়ার লোক পাল্টেছে, ‘অদৃশ্য শক্তির’ বাধাও আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতার ‘আশীর্বাদে’ চলে ময়লা–বাণিজ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকা সিটির বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানে ময়লা নেওয়ার ফি আদায় বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ