গত সপ্তাহে নেপাল ও চীনে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০০০৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া উভয় দেশে এখনও ৪৪৬২ জনের মতো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো নিরলসভাবে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৩৯১৬ জন এবং এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের তীব্বত অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে।
নেপালের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাদার ভারী স্তরে চাপা পড়ে প্রায় ৯০০ কর্মীর আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন ও উদ্ধারকারী পাইলট প্রিয়া প্রায় ১০০টি মিশন পরিচালনা করেছেন। বন্যায় ভেসে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী মনীষা মাগারকে মৃত মনে করা হলেও, পরবর্তীতে তার বাবা-মা ভিডিও ফুটেজে তাকে উদ্ধারের দৃশ্য দেখে আশার আলো খুঁজে পান।
উদ্ধার ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেপাল পুলিশের উপ-পরিদর্শক হরি শরণ ঢাকল ভরতপুরে নেপাল পোল্ট্রি এন্টারপ্রেনার্স ফোরামের দপ্তরে একটি অস্থায়ী সমন্বয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। তিনি নিখোঁজ ৮৩৭ জনের তালিকা নিয়ে কাজ করছেন এবং সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২টি মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে নদীতে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় অনেক মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ফলে কর্তৃপক্ষ শত শত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে গণকবরে সমাহিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
এই কঠিন পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে উপ-পরিদর্শক হরি শরণ ঢাকল বলেন, “এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। লোকজন আমাদের কাছে এসে কান্না করছে। আমরা তাদের বেদনা অনুভব করছি।” নেপালে থাকা সিএনএনের টিম জানিয়েছে, শনাক্ত করা যায়নি এমন শত শত নিহতকে কর্তৃপক্ষ গণকবরে মাটিচাপা দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উভয় দেশে এখনও ৪৪০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০০৩ জনে আর নিখোঁজের সংখ্যা ৪৪৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুর্যোগের এ সময়টিতে তিনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে জীবিতদের উদ্ধারে প্রায় ১০০ মিশন পরিচালনা করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সময়ই তার বাবা-মা এক ভিডিও ফুটেজে তাদের প্রিয় সন্তানকে উদ্ধারের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।