পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া খাবারে তেলাপোকা ও তেলাপোকার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নামে খাবার চামচে তুলে নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালের রোগীদের খাবার বিতরণের সময় এই ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান রোগীদের খাবার বিতরণকালে চামচে খাবার তুলে বারবার গন্ধ শুঁকছেন। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজীব আহামদ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন, জনপ্রতিনিধি না হয়েও একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে হাসপাতালের খাবারের মান যাচাই করেন। যদিও পরে তিনি মন্তব্য করেন যে, ভিডিওতে ওই নেতাকে খাবার খেতে দেখা যায়নি, তিনি কেবল গন্ধ শুঁকেছেন।
বিতর্কের বিষয়ে মজিবুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি রোগীদের অনুরোধেই খাবারের গন্ধ শুঁকে দেখেছেন। তিনি জানান, জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বাবাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের খাবার বিতরণের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন রোগীরা তাঁকে ডেকে খাবারে তেলাপোকা ও দুর্গন্ধের অভিযোগ করেন। মজিবুর রহমানের ভাষ্যমতে, যেখানে খাবারে তেলাপোকা থাকার অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তা মুখে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না; তিনি কেবল চামচে তুলে গন্ধ পরীক্ষা করেছেন। তাঁর দাবি, একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড ও বেডগুলোতে তেলাপোকার উপদ্রব অনেক বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। এতে রোগী থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অতিষ্ঠ। এর আগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিনও তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এদিকে, হাসপাতালের বাবুর্চি মজিবর মিয়া খাবারে তেলাপোকা থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ওই নেতার খাবার যাচাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুর্চি প্রথমে দাবি করেন, মজিবুর রহমান খাবার খেয়ে প্রশংসা করেছেন। তবে পরে একই চামচ খাবারে ব্যবহার করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে তিনি নিজের বক্তব্য বদলে বলেন, ‘তিনি খাবার মুখে দেননি।’
পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, রোগীদের খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও রোগীদের অভিযোগের বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।