প্রেসক্লাব যশোরের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে এবার স্মারকলিপি দিয়েছে প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি। মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন এবং নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যথায় ৮ আগস্ট থেকে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরবর্তী আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক একরাম উদ দ্দৌলা, যুগ্ম আহবায়ক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক ও সদস্য সচিব আকরামুজ্জামান সাক্ষরিত স্মারক লিপিতে এ হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি আগামী ৩১ অক্টোবর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। অথচ ওই তারিখ বর্তমান কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস পরে। ফলে গঠনতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থীভাবে কমিটি নিজেদের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে বলে স্বাক্ষরকারীরা দাবি করেছেন। তারা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় উপস্থিত সদস্যরা নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। ওই সভা থেকেই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে “প্রেসক্লাব যশোর নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি” গঠন করা হয়।
সদস্যদের দাবি, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে অনিবার্য পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও বর্তমানে দেশে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে এমন কোনো পরিস্থিতি বিরাজ করছে না, যার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব নয়। তাই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত বা নৈতিক ভিত্তি নেই বলে তারা উল্লেখ করেন। স্মারকলিপিতে বর্তমান কমিটির দুই বছরের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, একটি লিফট স্থাপন ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
এছাড়া ওই লিফটের অর্থায়নও পূর্ববর্তী কমিটির সময় অনুদান হিসেবে নিশ্চিত হয়েছিল। ফলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করলে ক্লাব বা সদস্যদের কোনো বাস্তব উপকার হবে না বলে দাবি করা হয়।স্মারকলিপিতে আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোটগ্রহণ সম্পন্ন এবং নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যথায় ৮ আগস্ট থেকে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরবর্তী আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।স্বাক্ষরকারীরা বলেন, প্রেসক্লাব যশোর স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠান। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।