বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে প্রথম টেস্টে বিব্রতকর হারের পর ম্যাকাই টেস্টের উইকেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার। স্পোর্টস্টারে লেখা এক কলামে তিনি দাবি করেন, স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবেই অতিরিক্ত বাউন্স ও দ্রুতগতির পিচ তৈরি করেছিল। ম্যাকাইয়ের এই টেস্টটি মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হয়, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।
ম্যাচটিতে বাংলাদেশ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয়। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া তাদের একমাত্র ইনিংসে ২১০ রান সংগ্রহ করে। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে স্বাগতিকরা সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে। গাভাস্কার তার কলামে উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুইদিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঘটনা চারবার ঘটেছে। অথচ এই ধরনের ট্রাম্পোলিন-বাউন্স পিচের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা শোনা যায় না। তিনি আরও বলেন, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অপমানিত হওয়ার পর অজিদের এমন পিচ তৈরি করাটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে বরাবরের মতো তারা হয়তো দাবি করবে, গ্রাউন্ডসম্যান নিজের ইচ্ছাতেই এটি করেছেন এবং টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো নির্দেশনা ছিল না।
ভারত ও উপমহাদেশের সঙ্গে তুলনা টেনে গাভাস্কার বলেন, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের বোলিং শক্তির উপযোগী উইকেট চাওয়ার বিষয়টি খোলামেলা স্বীকার করে। অন্যদিকে, পুরনো পরাশক্তিরা গোপনীয়তা ও ইশারার মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো পিচ তৈরি করে নেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভারতে যদি কোনো ম্যাচ তিনদিনে শেষ হতো, তবে পিচ ও বিসিসিআইকে নিয়ে কত ধরনের অবমাননামূলক মন্তব্য করা হতো! এই ভণ্ডামি অত্যন্ত নগ্ন ও হতাশাজনক।
ম্যাচ রেফারির রেটিং নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন গাভাস্কার। তিনি মনে করেন, পুরনো পরাশক্তির মিডিয়ার বাহবা পাওয়ার বাসনা থেকে রেফারিরা অনেক সময় প্রতিকূল রেটিং দিতে কার্পণ্য করেন। এছাড়া পেস ও স্পিন বোলিং বিচারের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, স্পিন খেলা ব্যাটিং দক্ষতার আসল পরীক্ষা হলেও ফাস্ট বোলিংয়ের ক্ষেত্রে কেবল ফ্রন্ট বা ব্যাক ফুট মুভমেন্টই যথেষ্ট। অথচ সাব-কন্টিনেন্টের সাধারণ রেকর্ডধারী খেলোয়াড়দেরও অনেক সময় অহেতুক মহান আখ্যা দেয়া হয়। দ্রুতগতির পিচে রান না পেলে ব্যাটারদের মূল্যায়ন করা হয় না, অথচ মন্থর উইকেটে পেসাররা উইকেট না পেলেও তাদের নিয়ে প্রশংসার শেষ নেই। কলামের শেষে গাভাস্কার ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ম্যাচ রেফারি ম্যাকাইয়ের পিচকে কী রেটিং দেন তা দেখার অপেক্ষায় থাকলেও, অজিরা বর্তমানে বেশ স্বস্তিতেই রয়েছে কারণ তারা জানে তাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।