বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়ায় বিহার রাজ্যের ফারাক্কা ব্যারাজ ও পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া এই নবায়ন প্রক্রিয়ায় বিহারের দীর্ঘদিনের দাবি ও শঙ্কাগুলো আলোচনার টেবিলে তোলা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
নয়াদিল্লিতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জেডিইউ সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা অংশ নেন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনসহ পররাষ্ট্র, অর্থ ও জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিহারের বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ ও পানিসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজয় কুমার চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, প্রায় তিন দশক আগে যখন বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন বিহারের স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, ফারাক্কা ব্যারাজে আসা পানির একটি বড় অংশ বিহারের ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে আসে, অথচ সেচ, শিল্প ও পানীয় জলের প্রয়োজনে রাজ্যটি তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। চুক্তির নবায়নের সময় বিহারের এই ন্যায্য স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া নেপালের কোসি নদীসহ অন্যান্য নদীর ওপর উচ্চস্তরের জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২০০৪ সালে নেপালের বিরাটনগরে প্রতিষ্ঠিত জয়েন্ট প্রজেক্ট অফিস বা জেপিও-এর কার্যক্রম এবং সেখানে বিহারের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, জয়শঙ্কর তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে জেপিও-তে বিহারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে এই কার্যালয়ে কেবল ভারত ও নেপালের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বিহারের দীর্ঘদিনের আটকে থাকা সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে প্রস্তাবিত জলাধার প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেয়াই এর উদ্দেশ্য।