কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে আজ বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছেন এলাকাবাসী।
রবিবার সকাল ১১টায় রৌমারী উপজেলা চত্বরে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা। “বিদ্যুতের দাম কমাও, লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ বন্ধ করো”—এই দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, “আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ চাই। দিনের পর দিন লোডশেডিং আর লো-ভোল্টেজে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। লো-ভোল্টেজের কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। হাসপাতাল, ব্যাংকিং সেবা, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে বিঘ্ন।
“বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। ফ্রিজ চলছে না, অনলাইন সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।”
সমাবেশ থেকে দ্রুত লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সাময়িকভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
“রৌমারী ও রাজিবপুরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের অবসান ঘটে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন এই অঞ্চলের মানুষ।