বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট জুবায়েরপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সরকার একই বিষয়ে আলোচনা করেছিল।
ইজতেমার স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদপন্থী প্রতিনিধিরা টঙ্গী ময়দানে তাদের অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা দুই পর্বের ইজতেমা শেষে রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া মাওলানা সাদ সাহেবের সফরের বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হত্যা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল উদ্ধার ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ধর্মীয় এই বড় জমায়েতটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণের (সাদপন্থী) সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্যানুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার অনেক হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুরূপ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে তাবলীগ জামাতের (জুবায়েরপন্থী অংশ)।