শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসরাইলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে গাদি আইজেনকটকে ৬৭ এমপির সমর্থন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ হরিরামপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ব্যাগ সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায় বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের মন্ত্রী: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু ভূমিধসে জয়ী ডেমোক্রেটদের সামনে এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের: পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার চুয়াডাঙ্গায় দেয়াল লিখনের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

ভূমিধসে জয়ী ডেমোক্রেটদের সামনে এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদকের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ভোটারদের সমর্থন পেলেও নির্বাচনী সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের সংসার খরচ বা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। মূলত উচ্চমূল্যস্ফীতির যে সমস্যার কারণে রিপাবলিকানরা নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, ঠিক সেই একই জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলা এখন ডেমোক্রেটদের করতে হচ্ছে। আমেরিকানরা নিত্যপণ্যের দাম কমানোর আশা করছেন, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের জন্য এই দাম দ্রুত কমিয়ে আনা বেশ কঠিন। সুস্থ অর্থনীতিতে কিছু পণ্যের দাম কমলেও, কয়েক বছরের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি পুষিয়ে পণ্যমূল্য আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এমন ব্যাপক মূল্যপতন ঘটালে কর্মসংস্থান কমে গিয়ে মানুষের আয় হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নতুন ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় দলটির প্রতিনিধিদের জন্য এটি প্রথম বড় পরীক্ষা, যেখানে তাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যা জনগণের পারিবারিক বাজেটে বাস্তব পরিবর্তন আনবে।

বাজেট ও নীতি অগ্রাধিকার বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ’-এর ফেডারেল বাজেট নীতির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ব্রেন্ডান ডিউকের মতে, পণ্যের দাম ২০১৯ সালের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং ইরান যুদ্ধের অবসানের মতো নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটানো যেতে পারে। ডিউক আরও সতর্ক করেন যে, বেকারত্ব বৃদ্ধি কিংবা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বিনিয়োগ বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটকে আড়াল করে দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এসব নীতিগত পদক্ষেপে সম্মতি দেবেন কিনা, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়ে গেছে।

পারিবারিক ব্যয়ের ওপর চাপ কমাতে ডেমোক্রেটদের হাতে ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাজারে প্রত্যাশার প্রভাবে তেলের দাম কিছুটা কমলেও, ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, কংগ্রেস শুল্ক প্রত্যাহারে ভোট দিলেও ট্রাম্প তাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক কমার সুফল সরাসরি ভোক্তাদের দেবে কিনা, তারও নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের ভর্তুকি পুনর্বহাল ও মেডিকেইডে কাটছাঁট প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও ট্রাম্পের ভেটো ও দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে ভেস্তে যেতে পারে। তাদের কেউ কেউ খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও বলেছেন। ফলে যে স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা, শেষ পর্যন্ত তাতে পরিবারগুলো আগের চেয়েও খারাপ অবস্থায় পড়তে পারে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সিনেট নির্বাচনে জয়ী অনেক ডেমোক্রেট প্রার্থী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করেছিলেন। যেমন, টেক্সাসে জেমস তালারিকো শুল্ক প্রত্যাহার ও বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনার রয় কুপার ‘সবকিছুর দাম কমাতে’ কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন, আর সাউথ ক্যারোলাইনার অ্যানি অ্যান্ড্রুজ ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের জয় ভোটারদের সরাসরি অর্থ সহায়তার পথ তৈরি করেছে। টেক্সাসের নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোজোসা তো ১ হাজার ৫০০ ডলারের রিবেট বা অর্থ ফেরত দেওয়ার চেক প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন।

তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ধনকুবের বিনিয়োগকারী ও বন্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ডাবললাইন ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী জেফ গান্ডলাখ বুধবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, নতুন ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য ‘সাশ্রয়ী জীবনযাপন’ ভোটারদের দেওয়া প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, দ্রুত দাম কমাতে গিয়ে ডেমোক্রেটদের কোনো জাদুর কাঠি খুঁজে বের করতে হবে, নয়তো মানুষকে অর্থ দিতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকানদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে পণ্যের দাম হুবহু আগের পর্যায়ে ফেরানোর চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে মজুরি বৃদ্ধি বেশি কার্যকর হতে পারে, যদিও সেই প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন আকর্ষণীয় নয়। কংগ্রেসে সাফল্য পেলেও ডেমোক্রেটরা নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন না এবং প্রেসিডেন্টের ভেটো ঠেকানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতাও তাদের নেই। সাধারণত অর্থনীতির দায় কংগ্রেসের চেয়ে প্রেসিডেন্টের ওপরই বেশি বর্তায়। তবু ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ডেমোক্রেটদের জন্য এখনই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুতগতিতে মজুরি বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ফিরে আসতে পারে। এর পাশাপাশি নতুন করে মূল্যস্ফীতির ধাক্কা না আসার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ