শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসরাইলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে গাদি আইজেনকটকে ৬৭ এমপির সমর্থন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ হরিরামপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ব্যাগ সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায় বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের মন্ত্রী: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট শুরু ভূমিধসে জয়ী ডেমোক্রেটদের সামনে এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের: পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার চুয়াডাঙ্গায় দেয়াল লিখনের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের

প্রতিবেদকের নাম

দেশের সার সংকট নিরসন ও কৃষিখাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই মহাপরিকল্পনার আওতায় আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বার্ষিক সার উৎপাদন সক্ষমতা ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া সার কারখানা, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার কারখানা এবং নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জমিতে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিসিআইসি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের অধীনে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সংস্থাটি ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার মাত্র ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হয়েছে। একই অর্থবছরে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে সিংহভাগ সার আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করতে হচ্ছে। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ।

নতুন কারখানাগুলোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকার বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এবং দেশীয় শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে নতুন কারখানাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া কারখানাটির নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে বিসিআইসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ভোলায় কারখানাটি নির্মিত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সাফল্য আসবে, তবে এজন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও কারিগরি প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রামের টিএসপি কারখানা প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন এই কারখানা স্থাপিত হলে টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

নরসিংদীর পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিদ্যমান শিল্প কারখানার অব্যবহৃত জমি ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে এই নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিচার-বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে নিয়মিত উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রকৌশলী, দক্ষ শ্রমিক এবং প্রযুক্তিবিদদের পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহ চেইনে পরোক্ষভাবে অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে চূড়ান্ত নকশা ও জনবল কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসংস্থানের সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা আরও বলেন, শুধু নতুন কারখানা নয়, বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিআইসির।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ