যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাবে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বস্তির আমেজ ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ডলারের মান কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্দেশক সূচক ০ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর আগে গত কার্যদিবসেও সূচকটি ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিল জানান, নির্বাচনী ফলাফল ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
তিনি একটি পডকাস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, বন্ডের বাজার এবং নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে সরাসরি সংযোগ বিদ্যমান।
মূলত ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় ডলারের দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্যমতে, আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে ফেড কর্তৃক সুদের হার ০ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮১ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের দিন ছিল ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে দেশটিতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পাউন্ডের বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিগত সিদ্ধান্তের আগ মুহূর্তে পাউন্ডের দাম ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক পর্যায়ে মুদ্রার মান ১ দশমিক ৩৫০৩ ডলারে পৌঁছায়, যা বিগত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাউন্ড টানা ষষ্ঠ দিনের মতো উন্নতির পথে রয়েছে, যা গত ৬ জুলাই শেষ হওয়া টানা আট দিনের ধারাবাহিক উত্থানের পর দীর্ঘতম ঊর্ধ্বগতি। ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াতে পারে। তবে আগামী বছর সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাংকটি সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে, ইউরোর বিনিময় মূল্য ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১২৪১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বিওজে) সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর জাপানি ইয়েনের দাম ০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৮ দশমিক ২৫ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। বিওজের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই দ্রুত সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ওই বৈঠকে সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। এছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের দাম ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০১ ডলারে এবং নিউজিল্যান্ডের ডলারের দাম ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৫৬২৭ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ৮৬ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের ৬৬ হাজার কর্মসংস্থানের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। চলতি সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে শ্রমবাজারের তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে এবং শুক্রবার সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী তথ্যের প্রবাহ সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হামলার বিষয়ে আগ্রহ কমতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা ৬৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।