মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে উন্নত কোনো সভ্যতার অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধানে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি রহস্যময় রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। চীনের বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ ‘ফাস্ট’-এর সংরক্ষিত পুরোনো তথ্যগুলো নতুন সফটওয়্যারের সাহায্যে পুনরায় পর্যালোচনার সময় এই সংকেতের দেখা পাওয়া গেছে। আর তাই দীর্ঘদিন থেকেই ভিনগ্রহে কোনো প্রাণী রয়েছে কি না, তা জানতে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, পৃথিবী থেকে প্রায় ২৩৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কেটু-১৫৫ (K2-155) নক্ষত্র সিস্টেম পর্যবেক্ষণের সময় সংকেতটি ধরা পড়ে। এই নক্ষত্রমণ্ডলীর তিনটি সুপার-আর্থ গ্রহের একটি নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যেখানে তরল পানি থাকার উপযোগী পরিবেশ বিদ্যমান থাকতে পারে। দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, সাধারণত প্রাকৃতিক কোনো মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় এমন সংকেত তৈরি হয় না। কৃত্রিম ট্রান্সমিটার থেকে আসা সংকেতগুলো নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির হয়ে থাকে, যা ভিনগ্রহের প্রযুক্তির অস্তিত্ব খোঁজার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংকেতটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি টেলিস্কোপের নির্দিষ্ট একটি রিসিভার বিমে ধরা পড়েছে, অথচ টেলিস্কোপের অন্যান্য ১৮টি বিমে এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংকেতটির ফ্রিকোয়েন্সিতে নিয়মিত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করা এবং সেটির প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করা দুটি ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। সফটওয়্যার কেবল সংকেতটিকে চিহ্নিত করতে পারলেও এটি ঠিক কী কারণে তৈরি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও টেলিস্কোপ ‘ফাস্ট’-এর ডিস্ক প্রায় ১ হাজার ৬৪০ ফুট প্রশস্ত, যা প্রায় ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান। এর বিশালাকার পৃষ্ঠভাগ মহাকাশের অত্যন্ত দুর্বল রেডিও তরঙ্গও সংগ্রহ করতে সক্ষম। মহাকাশচারী ও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই গবেষণালব্ধ ফলাফল পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব এবং মহাজাগতিক যোগাযোগের রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।