সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পিস্তল হাতে অভিযান: আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেবে ডিবি রাষ্ট্রপতি: অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার দর্শন রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুর: জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭ দিনের আলটিমেটাম গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ে স্থগিতাদেশ ২৪ ঘণ্টায় হামে ৭ ও ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু শাহজালাল বিমানবন্দরে বাফুফে সভাপতি ও ফিফা প্রধানের সাক্ষাৎ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ঢাকা ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহেরদাদ আখলাকি কেতাবচির জয় নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান মৃত্যুর ঘটনা মামলায় গ্রেপ্তার এক যুবক

ইলন মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি: প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

প্রতিবেদকের নাম

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন চমক হিসেবে টেসলা নিয়ে আসছে তাদের রোডস্টার মডেল। সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির গতির সীমানাকে ছাড়িয়ে এই গাড়িটি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি গতি তুলতে সক্ষম। এর বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের প্রয়োজন। তবে গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তি, যা ব্যবহার করে এটি মাটি থেকে ওপরে উঠে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। সম্প্রতি প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে লাফ দেওয়া, মাঝ-আকাশে ভারসাম্য রক্ষা করা ও অবতরণ করতে দেখা গেছে, যা প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আর তাই সম্প্রতি টেসলা রোডস্টার গাড়ির উড্ডয়নক্ষমতা প্রদর্শনের পর থেকেই বাংলাদেশসহ প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। উড়ন্ত গাড়িটি আশপাশে চলাচল করা গাড়ি বা মানুষের বিপদের কারণ হবে বলেও সমালোচনা করছেন অনেকে। প্রদর্শনীতে গাড়িটির থ্রাস্টারগুলোর কার্যকারিতা দেখাতে রোডস্টারকে প্রথমে উল্টো করে আবার সোজা করা হয়। এমন প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করলেও প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বলের প্রভাবে গাড়ি বিপরীত দিকে এগিয়ে যায়। রোডস্টার কতক্ষণ উড়তে পারবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি টেসলা। তবে এসব কসরতের বাইরে দীর্ঘ সময় উড়তে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

গাড়িটির রকেট সংস্করণে সর্বোচ্চ ১০টি থ্রাস্টার যুক্ত করা হবে, যা স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তির আদলে তৈরি।

তবে এই সংস্করণটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। ২০২৮ সালে উৎপাদন শুরুর পর গাড়িটি কেবল নির্বাচিত ব্যক্তিদের কাছেই বিক্রি করা হবে। এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে টেসলা জানায়, রকেট সংস্করণে কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করা হবে। এখানে কার্বন ফাইবার ওভারর‍্যাপড প্রেসার ভেসেল বা সিওপিভি ট্যাংকে অত্যন্ত উচ্চচাপে বাতাস জমা রাখা হয়। প্রচলিত রকেটের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে নয়, বরং দ্রুত বাতাস নির্গমনের মাধ্যমে সৃষ্ট বিপরীতমুখী বলের সাহায্যেই গাড়িটি ওপরে ওঠে। এই একই প্রযুক্তি স্পেসএক্স তাদের ফ্যালকন ৯ রকেটের বুস্টার নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করে থাকে।

নিরাপত্তার প্রশ্নে টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, আপাতত গাড়িটির নকশায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। এটি সাধারণ সড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি কোন সড়কে এটি চালানো হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। টেসলার ওয়েবসাইটেও রকেট সংস্করণটিকে জনসাধারণের সড়কে চলাচলের জন্য অননুমোদিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়ির লাইনআপে দুই আসনবিশিষ্ট একটি ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণ সীমিত পরিসরে আসার কথা থাকলেও, ‘পারফরম্যান্স’ নামক অন্য সংস্করণটি সাধারণ সড়কে চলার উপযুক্ত হবে এবং তাতে কোনো রকেট থ্রাস্টার থাকবে না। নামের মধ্যে ‘কোল্ড’ বা ঠান্ডা শব্দটি থাকলেও এখানে বাতাসকে শীতল করার বিষয়টি বোঝানো হয়নি। ফলে শহরের যানজটের ওপর দিয়ে উড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ধারণাটি আপাতত বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে না। উড়ন্ত গাড়ি আনলেন ইলন মাস্ক—কী আছে এতে।

এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশ উদ্বেগজনক। রকেট সংস্করণের পেছনে থাকা চারটি থ্রাস্টার একসঙ্গে ৮০ কিলো নিউটনের বেশি বল তৈরি করতে সক্ষম, যা প্রায় ৯ টন ওজনের কোনো বস্তুর আঘাতের সমান। এই প্রবল বাতাসের ধাক্কায় পথচারীর হাড় ভাঙা বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া থ্রাস্টারের নির্গত বাতাসের বেগে রাস্তায় থাকা পাথরের টুকরা বা ছোট বস্তু বুলেটের মতো ছিটকে গিয়ে অন্যদের আঘাত করতে পারে। ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা অবস্থায় থ্রাস্টার চালু করলে পেছনে থাকা যানবাহনও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

গাড়ির চালকের সুরক্ষাও এখানে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝ-আকাশে ভারসাম্যহীনতা বা ডিগবাজি খাওয়ার সময় সাধারণ গাড়ির আসন চালককে ধরে রাখতে পারবে না। এক্ষেত্রে রোলার কোস্টারের মতো বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে, রোডস্টারের উড্ডয়ন ক্ষমতা প্রযুক্তিগতভাবে বিস্ময়কর হলেও, থ্রাস্টারের ভয়াবহ শক্তি এবং অবতরণের সময় সম্ভাব্য বিপদ বিবেচনা করলে এটি সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে গভীর সংশয় থেকে যায়। বিশেষ সাকশন প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি উল্টো হয়েও চলতে পারবে। পরে গাড়িটি সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ গাড়ির আসনের বদলে রোলার কোস্টারে ব্যবহৃত সুরক্ষাব্যবস্থার মতো কিছু লাগতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ