সাধারণত ১৪ বছর বয়সি কিশোরদের সময় কাটে স্কুল আর নতুন শখের সন্ধানে। কিন্তু জয়নাম জৈন এই বয়সেই এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন যা অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। দুবাইয়ের আকাশচুম্বী বুর্জ খলিফার ১৪১ তলায় নিজের অফিস নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি এআই স্টার্টআপ। তিনি দুবাইয়ের সবচেয়ে কম বয়সি এআই প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৪ বছর বয়সে কিশোর-কিশোরীরা যখন স্কুল শেষে কী করবে তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে, তখন জয়নাম জৈন করে দেখিয়েছেন এমন এক কীর্তি—যা অর্জন করতে অনেক উদ্যোক্তার বছরের পর বছর কেটে যায়। তবে জয়নামের মতে, এআই নিয়ে মানুষের উন্মাদনা শুরু হওয়ার অনেক আগেই তার এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল। সাধারণ কিশোরদের কাছে ১৪ বছর বয়স মানে নতুন শখ বা আগ্রহ খুঁজে পাওয়ার সময়। কিন্তু জয়নাম জৈনের কাছে এটি হলো নিজের জানালার বাইরে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত স্কাইলাইন বা শহর দেখতে দেখতে আস্ত এক ব্যবসা দাঁড় করানোর বয়স।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কিশোর ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’ নামক একটি এআই প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যে রয়েছেন। তার এই সাফল্যের গল্প সম্প্রতি ইন্টারনেটে দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই সাফল্যের পেছনের মূল চাবিকাঠি হলো ধারাবাহিকতা।
এই প্রযুক্তিটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং, গ্রাহক সেবা, বিক্রয় বৃদ্ধি এবং কনটেন্ট তৈরির কাজকে স্বয়ংক্রিয় করতে সক্ষম। এটি বিপণন থেকে শুরু করে লিড ম্যানেজমেন্ট, নিউজলেটার এবং গ্রাহক যোগাযোগের মতো কাজগুলোকে সহজ করে দেয়।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি বেটা সংস্করণে থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তার অসাধারণ ব্যবসায়িক দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের কারণে অনেকেই তাকে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে সম্বোধন করছেন। ১৪ বছর বয়সি এই কিশোরকে ইতোমধ্যে তার অসাধারণ ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত প্রতিভার কারণে জনপরিসরে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্মেলনে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
মাস্কের মতোই জয়নাম গতানুগতিক পড়াশোনার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে বেশি আগ্রহী। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এক প্রবল কৌতূহল তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে আরও পোক্ত হয়। কৌতূহল, মানুষের সঙ্গে আলোচনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তার এই পথচলায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জয়নাম জানান, মেঙ্গো ইঞ্জিন মূলত ব্যবসার জন্য একটি ‘এআই কো-ফাউন্ডার’ হিসেবে কাজ করবে।
তিনি এমন একটি ইউনিকর্ন কোম্পানি গড়তে চান যা বিশ্বজুড়ে বড় প্রভাব ফেলবে। তার লক্ষ্য কেবল মুনাফা অর্জন নয়, বরং বয়সের সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা। ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ৬,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে শেখার অভিজ্ঞতা তার পথচলাকে আরও বেগবান করেছে। তার এই জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে আজকের দিনে শিক্ষা কেবল চার দেওয়ালের শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়।
প্রাত্যহিক জীবনের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খবরসমূহ