শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

রাশেদ: এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত

প্রতিবেদকের নাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন পুনর্গঠিত কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যথাযথ কাউন্সিল ছাড়াই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দলের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। রাশেদ খানের অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র উপেক্ষা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো জামায়াতে ইসলামীর অনুমোদনে সাজানো হয়েছে।

রাশেদ খানের ভাষ্যমতে, যারা সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলেন এবং অন্য দলের রাজনীতির সমালোচনা করেন, তারাই এনসিপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, এনসিপির নতুন এই কমিটি কার্যত জামায়াতের যুব শাখায় রূপ নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, তাদের অগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির যেসব নেতা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করেন বা জামায়াতবিরোধী, তাদের পদাবনতি ঘটেছে। উল্টো দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত এবং নানা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে বলে তার অভিযোগ। এনসিপির নতুন কমিটিকে জামায়াতের যুব শাখার সঙ্গে তুলনা করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সব মিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের একধরনের অভিযোগ রয়েছে।’। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারল না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে। এর মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’।

দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে রাশেদ খান বলেন, এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক থাকতে পারবেন না। তিনি নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের বর্তমান মেয়াদ শেষ মেয়াদ হিসেবে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, এনসিপি হয়তো নতুন বন্দোবস্তের পরিবর্তে নতুন ভণ্ডবস্তের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। নাকি নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন ভণ্ডবস্তের পথেই এগোবে এনসিপি!’।

রাশেদ খানের মতে, এনসিপি চাইলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে একটি নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত। কিন্তু বর্তমান কমিটির ফরম্যাট দেখে মনে হচ্ছে, কিছু আসন ও নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে দলটি জামায়াতের কাছে পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি আরও যোগ করেন, এনসিপি এখন কার্যত একটি ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং তাদের স্বতন্ত্র রাজনীতি করার সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তার ভাষ্য, ‘আজকে যদি এনসিপি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারত, তাহলে আওয়ামী শূন্যতা পূরণের জন্য এনসিপিকে সবাই সাধুবাদ জানাতো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ