বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন

রাজনীতিতে পরিবেশ না থাকায় নিকৃষ্টরা এমপি-মন্ত্রী হচ্ছেন: স্পিকার

প্রতিবেদকের নাম

সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাঁর মতে, উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা এখন সমাজের শীর্ষ নেতা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। স্পিকার বলেন, ‘ইথিওপিয়ার তুলনায় আমরা দেখেন কোথায় চলে গেছি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমাজব্যবস্থার কারণে ভালো মানুষের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে এ অবস্থা চিরকাল থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সমাজব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে, ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের তীব্র সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ওই আমলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মানুষের অগোচরে তৈরি করা ‘আয়নাঘর’ ও নির্যাতন সেলে বহু মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনসহ বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। সরকারের অন্যায় আচরণের কারণে প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, ‘আয়নাঘর বলতে একটা জিনিস আছে, কেউ জানতই না। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেখা গেল তাদের টর্চারসেল। আওয়ামী লীগ সমাজের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীকে নষ্ট করে দিয়েছে।’।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে জনগণের দোয়ার ফল উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দলটির নেতা-কর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ ছেড়ে সাধারণ সদস্য হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন। ফলে নিজ এলাকায় কোনো ধরনের দখলদারি, মাস্তানি কিংবা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। নিজের সততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তিনি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন।

এলাকার মানুষকে হয়রানি বা জমি দখলের ঘটনা ঘটলে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানাতে পরামর্শ দেন স্পিকার। তবে নেতারা নিজেরাই এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটায় আগামী দিনে দেশে একটি সুন্দর সমাজ গঠিত হবে।

তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা পর্ব শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ