বর্তমান বিশ্বে ৫জি প্রযুক্তির ব্যবহারের পরিধি বাড়লেও ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখনই ৬জি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। মূলত নতুন প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি তৈরি, পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। মুঠোফোন ছাড়াও গাড়ি, স্মার্ট হোম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত রাখতে এই প্রযুক্তির প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করা হয়েছে। ৫জি প্রযুক্তির বিস্তারই যেখানে এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, সেখানে ৬জি নিয়ে এত আগ্রহ কেন। মোবাইল প্রযুক্তির বিবর্তনকে সাধারণত এভাবেই দেখা হয়।
মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তির ষষ্ঠ প্রজন্ম বা ৬জি কেবল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর মাধ্যম নয়। এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের কার্যপরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে, নেটওয়ার্কের বেতার সংকেত ব্যবহার করে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে থাকা গাড়ি বা মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত করার মতো সক্ষমতাও এই প্রযুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের আওতাধীন আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জি প্রযুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আইএমটি-২০৩০’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে আসেনি। বর্তমানে এর কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ চলছে এবং ২০৩০ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে এর উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০৩০ সালকে সামনে রেখে প্রযুক্তিটির মান ও কার্যক্ষমতা নির্ধারণে অগ্রগতি হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ৬জি চালুর দৌড়ে নেমে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টি-মোবাইল ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে কোনো প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসা আর সেটি বিশ্বজুড়ে সর্বত্র সহজলভ্য হওয়ার বিষয়টি ভিন্ন। অতীতে ৪জি ও ৫জি যেমন ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, ৬জির ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩জি, ৪জি ও ৫জির পর ৬জি আসবে।