দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রোববার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এ সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই সফলতার মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক যুগে প্রবেশের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এ সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) এই বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান এই অনুমোদনের বিষয়টি জানান। এরপরই রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন সক্রিয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিভিন্ন কারিগরি সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলোও সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ মেগাপাসকেল চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১২টি পরীক্ষা সফলভাবে চালানো হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ মেগাপাসকেল চাপে পরীক্ষায় কিছু সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত তা সমাধান করা হয়েছে।
পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এ সময় রিঅ্যাক্টরকে অত্যন্ত কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সব পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে এর ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং কেন্দ্রটি পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তখন রিঅ্যাক্টরের শক্তির সাথে টারবাইন ও জেনারেটরের সমন্বয় করা হবে। সব প্রস্তুতি শেষে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বছরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটকে শুরুতে কম ক্ষমতায় গ্রিডে যুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে সংযোগ পাওয়ার পর প্রায় সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম চলবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় প্রকল্পটিতে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল মেয়াদ থাকলেও দুই দফায় বাড়িয়ে এখন ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে তা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।