ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে উপসাগরীয় পাঁচটি দেশ। এই দেশগুলো হলো সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান এবং কাতার। গত ১৯ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল পাঁচটি পৃথক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের মানে এই নয় যে, তাৎক্ষণিকভাবে ভিসামুক্ত ভ্রমণ শুরু হয়ে গেছে।
ভিসানিউজের এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের অনুমতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের নিয়মিত শেনজেন ভিসার নিয়মই মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, নতুন কোনো নিয়ম এখনো কার্যকর হয়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাওয়ার আগে দেশগুলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত পূরণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভ্রমণ নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতির মানদণ্ড এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদার করা। এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি ইইউকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
একবার যদি এই ভিসামুক্ত ভ্রমণের অনুমতি কার্যকর হয়ে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভবিষ্যতে ইউরোপের ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন ব্যবস্থা বা ইটিআইএএস (ETIAS)-এর অনুমোদন নিয়ে ভ্রমণ করতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, উপসাগরীয় ছয়টি দেশের মধ্যে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকেরা ২০১৫ সাল থেকে শেনজেন অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা ভোগ করছেন। নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে বাকি পাঁচটি দেশের নাগরিকেরাও সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারবেন। শেনজেনে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পেতে পারেন ৫ দেশের নাগরিক।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে অভিবাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর ইইউ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ভিসা নীতি শিথিলের বিষয়টি পুরোপুরি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের ওপরই নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এদিকে, এই সংবাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ১২০০ জনকে আটক করা, রিয়াদে হুথিদের মিসাইল হামলার ঘটনা এবং ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামগামী ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রীর ভোগান্তি। এছাড়া পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং সাইবার হামলার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ থাকার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে উঠে নামাজ পড়ান সিবগাতুল্লাহ। যৌন হয়রানির অভিযোগে রোবট আটক, তদন্তে পুলিশ। ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ২১৯৩৩ যাত্রী। রিয়াদে আবারও হুথিদের মিসাইল হামলা, প্রতিহতের দাবি সৌদির।