যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন করে ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কঠোর পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব হামলা করলে উপসাগরীয় অন্তত সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের ডেটা কেব্ল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। রেজাইয়ের মতে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইরান অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক কৌশল অবলম্বন করবে। কোনোভাবেই এমন বৈষম্যমূলক সমীকরণ মেনে নেওয়া হবে না যেখানে ইরানের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু হামলাকারীদের সহযোগী অবকাঠামো অক্ষত থাকবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন হামলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে ইরান এ ধরনের আক্রমণকে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। মোহাম্মাদির ভাষ্যমতে, এবারের সম্ভাব্য রণকৌশলে কোনো সীমারেখা থাকবে না, যার ফলে যুদ্ধ অনেক দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং বিশাল অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে আসন্ন যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা চূড়ান্ত করেছে পেন্টাগন। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর ঘনিষ্ঠ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, নতুন সংঘাতে ইরানের কোনো কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে বা সাধারণ নাগরিক নিহত হলে তেহরান কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোকেও নিশানায় পরিণত করবে। কোনো ধরণের ছাড় না দিয়ে পূর্ণ শক্তির জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।