সাইবার হামলার ঝুঁকি এখন আর শুধু কম্পিউটার বা ব্যাংক সার্ভারে সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র এখন অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সম্প্রতি ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি বড় সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা হ্যাক হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাইবার হামলা মানেই কম্পিউটার, ব্যাংকের সার্ভার কিংবা সরকারি ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ এমন ধারণা এখন বদলাচ্ছে। এত আধুনিকতা যে বিপদ ডেকে আনতে পারে তা হয়তো গত কালের আগেও কেউ ভাবেনি। তাই কোনো একটি যন্ত্রের নিরাপত্তায় দুর্বলতা থাকলেও তা বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের কয়েকশ সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। অভিযোগ রয়েছে যে, হ্যাকাররা এই যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর পাশাপাশি, যন্ত্রগুলোতে থাকা সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ম সিস্টেমও তারা নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল। তবে এই তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক দোকানের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে তাপমাত্রা বদলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আধুনিক সুপারমার্কেটগুলোতে খাবার সংরক্ষণের জন্য বিশাল আকারের রেফ্রিজারেশন ইউনিট ব্যবহার করা হয়, যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধার্থে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কর্মীরা রিমোট মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তাপমাত্রা দেখা বা সেটিংস পরিবর্তনের কাজগুলো সহজেই করতে পারেন। তবে এই সুবিধার বিপরীতে দুর্বল পাসওয়ার্ড, পুরোনো সফটওয়্যার বা অনিরাপদ রিমোট অ্যাক্সেসের মাধ্যমে হ্যাকাররা সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। আবার তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে গেলে কর্মীরা সময়মতো সমস্যার কথা জানতে নাও পারেন।
তাপমাত্রার এই অস্থিতিশীলতায় মাছ, মাংস, দুধ ও অন্যান্য পচনশীল খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা একইসঙ্গে আর্থিক ক্ষতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুধুমাত্র ফ্রিজার নয়, ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ক্যামেরা ও স্মার্ট মিটারগুলোও এখন সাইবার অপরাধীদের নজরে থাকতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন
পরিশেষে, প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা এখন সময়ের দাবি। ফ্রান্সের ঘটনার সত্যতা তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।