চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা দুইবার এগিয়ে গিয়েও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমতায় ফিরেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের বীরত্বে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশ জায়ান্টরা। প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই হারের পর এই জয় দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। বর্তমানে চার ম্যাচে তিন জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকায় সাত নম্বরে অবস্থান করছে দলটি।
ম্যাচের ৩৭ মিনিটে কপালগুণে এগিয়ে যায় সিটি। রায়ান শেরকির পাস থেকে বল পেয়ে নিকো ও’রাইলি কাটব্যাক করেন, যা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠান লাইপজিগের ডিফেন্ডার কাস্তেলো লুকেবা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ম্যানসিটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দ হারায় সফরকারীরা। ৪৯ মিনিটে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার ভুলে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন রিডলে বাকু, এতে ম্যাচে ফেরে লাইপজিগ। লাইপজিগের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। বাম দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের কাছাকাছি থেকে নেওয়া তার শট ঠেকাতে পারেননি সিটি গোলরক্ষক।
৫৭ মিনিটে সিটির হয়ে পুনরায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান হালান্ড, তবে তার শট রুখে দেন লাইপজিগ গোলরক্ষক মার্টেন ভান্দেভুর্ট। অবশ্য ৬৩ মিনিটে ইলিমান দিয়ারের ক্রসে দারুণ হেডে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এনজো ফার্নান্দেজ। যদিও সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। ৭০ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর বুদ্ধিদীপ্ত পাসে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করে আবারও সমতা ফেরান আন্তোনিও নুসা। সেই লিডও অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। তবে ৬৩ মিনিটে আর ভুল করেনি সিটি।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন আর্লিং হালান্ড ৭৮ মিনিটে।
এলিয়ট অ্যান্ডারসনের নিখুঁত ক্রসে বক্সের শেষ প্রান্তে পৌঁছে স্লাইড করে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার ১৪তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৬১ ম্যাচে তার মোট গোলসংখ্যা ৬২-তে উন্নীত হলো। শেষ দিকে অবশ্য দুই দলই গোলের সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু লাইপজিগের ডেভিড রাউম ও সিটির শেরকির শট ক্রসবারে বাধা পাওয়ায় ব্যবধানে আর পরিবর্তন আসেনি। গত মাসে পিএসজির কাছে হার ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি সিটির একমাত্র জয়রথ। লাইপজিগের ডেভিড রাউমের ফ্রি-কিক দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করে ক্রসবারে লাগে। অন্যদিকে শেরকির শটও ক্রসবারে প্রতিহত হয়।