বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী প্রায় ২ হাজার জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫ জনের প্রাণহানি লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর প্রাণহানি: বাড়িতে ডেকে নিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায় রাষ্ট্রপতি: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৪৬, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বিইআরসির শুনানিতে আজ নজর জ্বালানি ও রেল খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন ভোটের শঙ্কা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, প্রভাব ফেলছে তেলের দর

মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর গুঞ্জন: নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় যারা

প্রতিবেদকের নাম

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরপরই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য এই পুনর্গঠনে নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং মিত্র দলের একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। গত ছয় মাসে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়া এবং বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দু-একজনের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে সরকারের ভেতরে-বাইরে গুঞ্জন রয়েছে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ঝুঁকিতে থাকা মন্ত্রীরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। পাশাপাশি নতুন করে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার আশায় অনেক নেতা সিনিয়র মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের বাসায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। আগ্রহী নেতারা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ত্যাগ ও ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন, এমনকি মন্ত্রিসভায় থাকা বর্তমান সদস্যদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

তবে এসব কর্মকাণ্ড এখনো দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে। সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতার পাশাপাশি সংসদের সব হুইপ ও বেশ কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, প্রায় সবাই মির্জা ফখরুলের মনোনয়নকে সমর্থন করেছেন, তাই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি খালি রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। তবে শহীদউদ্দীন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব খবরে তিনি বিব্রত।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মিত্র দল বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার সম্ভাবনা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সংসদের হুইপদের মধ্য থেকে দু-একজন।

সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বর্তমানে তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবর্তন আসার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে।

বিএনপির ‘বঞ্চিত’ হিসেবে পরিচিত নেতারাও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েও যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া নেতাদের নিয়ে আলোচনা বেশি। এই তালিকায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকার একজন মন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চলের দুজন প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে নেতিবাচক আলোচনা ছড়িয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাদের বর্তমান অবস্থান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও অপেক্ষা রয়েছে।

পুরো বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইঙ্গিত অনুযায়ী খুব দ্রুতই মন্ত্রিসভায় নতুন সংযোজন ও বিয়োজন ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ৬ মাসে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয় বলে আলোচনা আছে।

ঢাকার একজন মন্ত্রী ও দেশের উত্তরাঞ্চলের ২ জন প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা ছড়িয়েছে।

ফলে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যরা মনে করছেন, তারা কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় নতুন কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।

এই কাজ করতে গিয়ে মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকারও কথাও টেনে আনছেন কেউ কেউ।

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ