যশোরে ঝিকরগাছা, চৌগাছা, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক কিশোরী, দুই শিশু, এক বৃদ্ধা, এক গৃহবধূ ও এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার বল্লী গ্রামের মৃত জোহর আলীর ছেলে হুজুর আলী (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে বিষাক্ত কীটনাশক পান করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।একই দিন চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের জালাল উদ্দীনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (১৫) মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বিষপান করে। তাকে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে বাড়ির সামনে খেলাধুলার সময় পুকুরে পড়ে সিফাত হোসেন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের জসিম মোড়লের ছেলে। পরে তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে অভয়নগর উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামে পুকুরে ডুবে লাবিব (৪) নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাবিব তানজিল শেখের ছেলে।
সোমবার সকালে অভয়নগর উপজেলার বারান্দি গ্রামে মোহিনী বিশ্বাস (৭৯) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মৃত গৃন্দ বিশ্বাসের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা এলাকার কবির উদ্দীনের স্ত্রী সুফিয়া (৩৫) হারপিক পান করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। অজ্ঞাত কারণে হারপিক পান করার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক এসব মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।