শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

যে ৬ হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেন আদ্-দ্বীনের রোগীরা

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ঃ

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার করা রোগীদের ঢাকার ছয়টি সরকারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, গত ১১ জুনের স্মারক অনুযায়ী আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় হাসপাতালটি থেকে রেফার করা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় তাদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেসব হাসপাতালে রোগীদের রেফার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।

এদিকে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর সেখান থেকে রোগীরা হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছেন। একদিনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে বর্তমানে ২৪৩ জনে নেমে এসেছে।

তবে হাসপাতালটির এনআইসিইউ, আইসিইউ ও সিসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে হাসপাতালটিকে আরও কয়েকদিন সময় দেওয়া হোক।

গত বৃহস্পতিবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই অনেক রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

তবে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো তুলনামূলক কম খরচে আইসিইউ বা এইচডিইউ সুবিধা পাওয়া কঠিন। ফলে রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালের এনআইসিইউতে ৫০ জন নবজাতক এবং আইসিইউ ও এইচডিইউতে ১৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সব মিলিয়ে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ জন।’

তিনি জানান, এসব রোগীর চিকিৎসার স্বার্থে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ভবন পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস সময় চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার তাদের কোনো প্রতিনিধিকে হাসপাতালে দেখা যায়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীদের স্বজনরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ