ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর পরিষদের সদস্যদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ গোপন করার অভিযোগ উঠেছে পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ এলেও তা পরিষদের সাধারণ সদস্যদের জানানো হয়নি। অভিযোগ উঠেছে বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সরকারদলীয় কিছু লোকজন,পৌর প্রশাসক,পৌর প্রকৌশলীসহ এই বিশাল অঙ্কের অর্থ নয়ছয় কাজ করার নামে লোপাট ও আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পৌর পরিষদের সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। চলতি বছরের ২৭ মে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) কাজের জন্য প্রায় ১কোটি টাকা রাণীশংকৈল পৌরসভার অনুকুলে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পৌর পরিষদের মাসিক সভায় এই বরাদ্দ ও প্রকল্প নিয়ে আলোচনা এবং রেজুলেশন পাস হওয়ার কথা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই নিয়ম মানা করা হয়নি। বরাদ্দ আসার বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শাখা থেকে পরিষদের সাধারণ সদস্যদের কিছুই জানানো হয়নি। এদিকে তড়িঘড়ি করে পৌর পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই গোপনে ফাইল তৈরি করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ না করেই বা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের লাইসেন্স দিয়ে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
রাণীশংকৈল পৌর পরিষদের নিয়োগকৃত সাধারণ সদস্য রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারীর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এডিপির বিশেষ বরাদ্দ আসার খবর সমন্ধে তার জানা নেই। একই মন্তব্য করেন পৌর পরিষদের সদস্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক কামাল আহম্মেদ। বলেন, বিশেষ কোন বরাদ্দ এসেছে কিনা তা তাদের জানা নেই। পরবর্তী সভায় জানতে চাইলে হয়তো জানা যাবে। তাছাড়া এগুলো বিষয় সব সময় পৌর প্রশাসক ও প্রকৌশলী দেখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর পরিষদের এক সদস্য বলেন,শুধু বরাদ্দের খবর না। পৌরসভার কোন কাজ হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পৌর পরিষদের সদস্যদের নুন্যতম মূল্যয়ন করা হয় না। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রশাসক কিংবা পৌর প্রকৌশলী কথা শুনে না। তাছাড়া খারাপ কাজ হলেও, ঠিকাদারকে কাজের মান ঠিক করার কথা বললেও ঠিকাদার প্রর্যন্ত পরিষদের সাধারণ সদস্যদের কথা শুনে না। আক্ষেপ করে ওই সদস্য আরে বলেন, পৌর প্রশাসককে সরকার নিয়োগ দিয়েছে সাধারণ সদস্যদেরও সরকার নিয়োগ দিয়েছে। এমন বৈষম্য আসলে মেনে নেওয়া যায় না। সরকারী চাকরি করি ,ইউএনও হচ্ছেন প্রশাসক তাই অনেক কিছু বলার থাকলেও বলতে পারি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার হিসাব রক্ষক শাহাজাহান আলী তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এবং কি কত টাকা বরাদ্দ তা বলতেও তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগমকে ফোন করলে তার সাথে কথা বলার পর শুধু বরাদ্দের তথ্য দিয়েই তিনি আর কোন তথ্য সরবারহ করতে রাজি হননি।
পৌর প্রকৌশলী এসএম জাবেদ আলী বলেন, পৌর পরিশদের সদস্যদের মিটিংয়ের স্বাক্ষর আছে। কাজগুলো কিভাবে দরপত্র করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় না থাকায় আরএফকিউ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পৌর প্রকৌশলী কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের সাথে সম্বন্বয় করে এডিপির এই টাকা লোপাটের ছক আকছেন। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম বলেন, যা তথ্য লাগে হিসাব রক্ষক শাহাজান আলীর কাছে নেন আমি বলে দিচ্ছি। তবে নিয়মনুযায়ী কাজ করা হবে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত না হলে সরকারের বড় অঙ্কের উন্নয়ন তহবিল লোপাটের কবলে পড়বে। সাধারণ নাগরিকরা প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তাছাড়া এই বরাদ্দের টাকার বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ হইচই শুরু হয়েছে। এতে বর্তমান সরকার দলের বেশ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।