রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই দুই দিনের সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে; বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফর সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউজে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি শহরের সেনুয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমীন ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।
কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। দিনের শেষভাগে নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন রাষ্ট্রপতি।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে জেলার মানুষ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের জেলার বাইরে যাওয়ার চাপ কমবে।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আবেগ কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সফর আমাদের জন্য গর্বের। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি শুধু সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি নন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তানও। তাই নিজের মানুষের কাছে তার ফিরে আসাটা জেলার জন্য আবেগের বিষয়।
আরেক বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ বলেন, এতদিন তাকে ‘আলমগীর স্যার’ হিসেবে দেখে এসেছি, এখন তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে আসছেন—এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। একইসঙ্গে তারা আশা করছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সফরকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা। তোরণ, আলোকসজ্জা আর প্রশাসনের ব্যস্ততায় পুরো জেলা এখন উৎসবমুখর।