শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব এশিয়ান গেমসে আবাসন সংকট: বাড়তি অ্যাথলেটদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে বলল জাপান রুমিন ফারহানার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখছেন অনেকে: রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্ট আশুলিয়ায় ভুয়া পত্রিকার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল কনডম তৈরির কারখানায় অভিযান রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন আবাসন সংকটে ২০তম এশিয়ান গেমস: অংশগ্রহণকারী কমাতে অলিম্পিক কাউন্সিলের দ্বারস্থ জাপান পাবনার চাটমোহরে প্রদীপের আলোয় ফিরে এল হারিয়ে যাওয়া পুঁথিপাঠের ঐতিহ্য পুনেতে পারিবারিক বিবাদ ঘিরে মর্মান্তিক ঘটনা: গ্রেপ্তার বাবা-মা ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৬০ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত

রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার সদস্যের মৃত্যু: তদন্তে নতুন তথ্য ও স্বজনদের সংশয়

প্রতিবেদকের নাম

রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি থেকে গত শনিবার রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার নেপথ্যে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি রয়েছে। বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়

  1. বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি ভবন দিয়ে গণপতির নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।
  2. ছাদে বসে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের বাধা দেন।
  3. পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা গণপতিকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
  4. এরপর একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়।
  5. হত্যার পর তারা বাড়ি থেকে বের না হয়ে ওই বাড়িতেই অবস্থান করে এবং সকালে ফ্রিজ থেকে খাবার খায়।
  6. তদন্তে দেখা গেছে, বাড়ি থেকে টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা মুঠোফোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো মালামাল খোয়া যায়নি।
  7. গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ দাস সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে এবং সিদ্ধার্থ দাস একটি গয়নার দোকানে কাজ করত।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নিহতদের মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে। কেউ সিঁড়িতে, কেউ খাটের নিচে ছিল। আগামী চক্রবর্তীকে হত্যার সময় খুনিরা রশি ব্যবহার করেছিল বলেও পুলিশের ভাষ্য।

তবে পুলিশের এই দাবি নিয়ে নিহতদের স্বজনরা তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী গতকাল রংপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশের ভাষ্য মানতে নারাজ। গোপীনাথের জামাতা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, দুই তরুণ একা চারজনকে হত্যা করেছে—এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাসও তার ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তার ছেলে কিছুটা মানসিকভাবে অস্থির।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছিল তার বোনের। এরপর থেকে তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী জানায়, গত তিন দিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা পুলিশকে খবর দিলে শনিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে পুলিশ আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রংপুর শহরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পুলিশের ধারণা ছিল, এটা ডাকাতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর এ সংক্রান্ত এক খবরে বলা হয়, পুলিশের এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষকের স্বজনেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে রেখে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আয়ুশকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে তাঁরা গোসল করেন, ফ্রিজ (রেফ্রিজারেটর) থেকে খেজুর ও শসা বের করে খান এবং আবার ইয়াবা সেবন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ