রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের আগে বিচারের দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর ৭ নভেম্বরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি এনসিপি-র ঢাকায় গ্রামপুলিশ মহাসমাবেশে আসার পথে অসুস্থ হয়ে দুই সদস্যের মৃত্যু এআই যুগে সফটওয়্যারের কোয়ালিটি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাংক এশিয়ায় কল সেন্টার ম্যানেজার পদে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি অর্জন সম্ভব সিলেট টেস্টে হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে যত রেকর্ড হৃদয়ের রেকর্ড ২৪২ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে লিড পেল বাংলাদেশ

পাবনার চাটমোহরে প্রদীপের আলোয় ফিরে এল হারিয়ে যাওয়া পুঁথিপাঠের ঐতিহ্য

প্রতিবেদকের নাম

আধুনিক প্রযুক্তির দাপট আর বিনোদনের নতুন সব মাধ্যমের ভিড়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুঁথিপাঠ আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই হারানো সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে পাবনার চাটমোহরে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমী পুঁথিপাঠের আসর। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব ছিল এর পরিবেশনায়। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহ ধরে রাখতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার এড়িয়ে চারপাশ অন্ধকার রাখা হয়। পরিবর্তে কেবল কুপি বাতি ও হারিকেনের স্নিগ্ধ আলোয় আসরটি সাজানো হয়েছিল। বাঁশের চাটাই ও পাটিতে বসে গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো এই আয়োজন উপভোগ করেন, যা উপস্থিত সবাইকে যেন অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন চিকিৎসক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এস এম আতিকুল আলম এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’ এবং মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’ পুঁথি থেকে সুর করে পাঠ পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সাজল বিশ্বাস, বিপ্লব আচার্য, নিয়ামুল মুক্তা ও শিক্ষক আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় একদল তরুণ। আয়োজক চিকিৎসক আতিকুল আলম জানান, একসময় দিনের ক্লান্তি শেষে গ্রামের মানুষ সুরের মূর্ছনায় পুঁথি শুনে বিনোদন পেতেন। কিন্তু স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও মুঠোফোনের যুগে সেই শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড় চেনাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চলনবিল অঞ্চলে এমন আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠক এস এম মিজানুর রহমান নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, আগে দাদা-নানাদের মুখে পুঁথি শোনার সুযোগ হতো, কিন্তু এখন আর সেই দক্ষ পাঠক পাওয়া যায় না। লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাসের এই অংশটুকু টিকিয়ে রাখতে পুঁথিপাঠের মতো আয়োজনগুলো সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দেখে আয়োজকরা ভবিষ্যতে এই ধারা বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ