শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

ন্যায়বিচার ছাড়া শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে: প্রধান বিচারপতি

প্রতিবেদকের নাম

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আইন বিভাগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, যখন ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়, তখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। রাষ্ট্র যদি নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারে এবং তাদের মত প্রকাশের কণ্ঠরোধ করে, তবে ন্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া একটি নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। প্রধান বিচারপতি বলেন, মানবতা যখন অবিচার ও অমানবিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়াবহ পরিণতি প্রত্যক্ষ করে, তখনই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা মানবজাতিকে নতুন নৈতিক চেতনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

দেশের ঐতিহাসিক আন্দোলনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার রক্ষার লড়াই ছিল না, এটি ছিল ন্যায়, মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। একইভাবে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির লড়াইও ছিল সমতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য কেবল একটি ভূখণ্ড বা পতাকা অর্জন ছিল না, বরং ন্যায়ের শাসন কায়েম করা ছিল অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বর্তমান সময়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একে প্রশাসনিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, সাংবিধানিকভাবে শক্তিশালী এবং নৈতিকভাবে সাহসী হতে হবে। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিচার বিভাগ সংস্কারের লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ