শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেক্ষাপট: ভুল পরিচয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন সোনা মিয়া গ্যাস সংকট নিরসনে সময় প্রয়োজন, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে শঙ্কা: কাটছাঁট না করার আহ্বান সরকারি কর্মচারী সমিতির বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বাস্তবতার সংকট ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ মালয়েশিয়ায় নতুন বৈধকরণ কর্মসূচির গুজব, সতর্ক করল ইমিগ্রেশন বিভাগ জানুয়ারিতে শুরু হবে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া ভাতা প্রদান শুরু: আর ঘুরতে হবে না অফিসে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার সদস্য, যুক্ত হলেন রিজভী ও আমান

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বাস্তবতার সংকট

প্রতিবেদকের নাম

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নিয়মিতভাবে দাবি করে যে তাদের আইন, কার্যবিধি এবং দৈনন্দিন বিচারিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড থেকে যোজন যোজন দূরে। আধুনিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলোর মধ্যে লেবাননের সাবেক স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল (এসটিএল) ছাড়া অন্য কোথাও আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার এমন ব্যাপক সুযোগ নেই। অথচ বাংলাদেশে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার অনুমতি রয়েছে এবং অধিকাংশ মামলাই এমনভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে আসামিরা আদালতে উপস্থিত থাকেন না। পাঁচটি সম্পন্ন মামলায় ৬২ জন আসামির মধ্যে ৪৩ জনের বিচার হয়েছে তাঁদের অনুপস্থিতিতে, যারা এসটিএল-এর মতো কোনো সুরক্ষাই পাননি।

আইসিটিতে পলাতক বা অনুপস্থিত আসামির জন্য আদালত থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও, এই আইনজীবীর সঙ্গে আসামির কোনো যোগাযোগ থাকে না। ফলে তিনি তথ্য যাচাই করতে পারেন না, সাক্ষী খুঁজে বের করতে পারেন না, আসামির নিজের বক্তব্য জানতে পারেন না, কিংবা আসামি কী বলতেন তা বিবেচনায় নিয়ে প্রসিকিউশনের মামলাকে চ্যালেঞ্জ করাও সম্ভব হয় না। এই নিয়োগগুলো এমনভাবে করা হয়েছে যেন একজন আইনজীবীর পক্ষে প্রত্যেক আসামির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মামলায় একজন আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী দুজনের পক্ষেই লড়েছেন। আবার আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় চারজন আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী ২৪ জন আসামির পক্ষে ছিলেন, যেখানে একজন আইনজীবীকে একসঙ্গে প্রায় ছয়জন আসামির দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

একাধিক আসামির স্বার্থ প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করাকে আইনিভাবে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার–সংক্রান্ত চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর আইনি প্রস্তুতির জন্য ‘যথেষ্ট সময়’ দিতে হবে। এই সময়সীমা মামলার ধরন, অভিযোগের গুরুত্ব, পরিসর এবং আইনি জটিলতার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৯ (৩) ধারায় প্রসিকিউশনের প্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচার শুরু করতে ট্রাইব্যুনালকে মাত্র তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করার বিধান রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সময়সীমা বাড়িয়ে ছয় সপ্তাহ করা হলেও, ২০২৫ সালে আবার তা কমিয়ে তিন সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ট্রাইব্যুনালগুলো অনেক ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত সর্বনিম্ন সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিলেও তা যথেষ্ট নয়। যেমন, আদালত-নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তিনি ২৫ জুন প্রমাণপত্র হাতে পান এবং এর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পর ৩ আগস্ট বিচার শুরু হয়ে যায়। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয় এবং দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ২৮ আগস্ট বিচার শুরু হয়। অথচ মামলার নথিপত্র এত বিশাল ছিল যে প্রস্তুতির জন্য আট সপ্তাহ সময়ও পর্যাপ্ত ছিল না বলে আইনজীবী আইজুল রহমান দুলা উল্লেখ করেছেন। অভিযোগের গুরুত্ব এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে অভিজ্ঞতার অভাব বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই সুযোগ কতটা অর্থপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। বিশেষ করে যেসব মামলায় সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে, সেখানে আসামিপক্ষের সাক্ষীদের আদালতে ডাকার আবেদন নাকচ করা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অস্বাভাবিক দ্রুতগতি ন্যায়বিচারের পথকে সংকুচিত করে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেওয়া রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানান, তাঁরা জাতিসংঘের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে ‘জুডিশিয়াল নোটিশ’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলন ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, তা এই বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

আইসিটির বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। তবে কার্যবিধির রুল ৫৩ (২)-এ বলা হয়েছে, জেরা অবশ্যই সাক্ষীর মূল জবানবন্দির বিষয়বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা এই বিধানটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, যার ফলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া সাক্ষীর আগের ও বর্তমান বক্তব্যের অসামঞ্জস্য তুলে ধরতে পারেননি। এর ফলে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার মৌলিক উপায় থেকে আইনজীবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের সাধারণ বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য আইনের অধীনে এ ধরনের জেরা করার সুযোগ রয়েছে। এই নিয়ম নিয়ে তখনই সমালোচনা উঠেছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এটি সংশোধন করা হয়নি।

বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরাও এই কঠোর নিয়ম অনুসরণ করছেন, যা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করে তাদের বক্তব্যের অসামঞ্জস্য দেখাতে বাধা দিচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যখন একজন আইনজীবী ২৪ জন আসামির পক্ষে লড়েন এবং তাকে জেরার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকতে হয়, তখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার কেবল কাগজে-কলমে থাকা যথেষ্ট নয়, বরং তা প্রয়োগের পূর্ণ সুযোগ থাকা আবশ্যক।

আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার ক্ষেত্রে যে আইনি সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন, বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালে তার অভাব প্রকট। পলাতক আসামি ফিরে এলে তার পূর্ণাঙ্গ পুনর্বিচারের অধিকার থাকা উচিত, যা এসটিএল-এর মতো ট্রাইব্যুনালে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু আইসিটিতে এই সুরক্ষার কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে বিচারপ্রক্রিয়াটি একটি একপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রসিকিউশনের মামলাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য যে আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন, তা আদালত-নিযুক্ত আইনজীবীদের পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিচারপ্রক্রিয়ার অস্বাভাবিক দ্রুতগতি এবং প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময়ের অভাব মামলার গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর মামলায় যেখানে ৩০ জনকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেখানে বিচারিক তাড়াহুড়ো ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে ব্যাহত করেছে। আইনি জটিলতা এবং নথিপত্রের বিশালতা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতির জন্য যে সময় প্রয়োজন, তা ট্রাইব্যুনাল প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আইসিসিপিআর-এর ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য হলো অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান ট্রাইব্যুনালগুলো এই অনুচ্ছেদের মূল স্পিরিট বা চেতনাকে যথাযথভাবে ধারণ করছে না। প্রসিকিউশনের প্রমাণ উপস্থাপনের পর বিচার শুরু করার জন্য যে তিন সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এই সময়সীমা মামলার জটিলতা অনুযায়ী বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, যা করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডেভিড বার্গম্যানের তথ্য অনুযায়ী, জাস্টিসইনফো ডট নেটে এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল নিয়মিতভাবে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি করলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। বিচারপ্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে কার্যবিধির রুল ৫৩ (২)-এর মতো সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া অপরিহার্য।

পরিশেষে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, এটি দেশের মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ড নির্ধারণের একটি পরীক্ষা। যদি বিচারপ্রক্রিয়াটি কেবল প্রসিকিউশনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় এবং আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারকে খর্ব করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ন্যায়বিচার কেবল প্রতিষ্ঠিত হওয়াই যথেষ্ট নয়, তা প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যেতে হবে এবং সব পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

যেমন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় (যেখানে সারা দেশে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ ও মৃত্যুর অভিযোগ ছিল) ২০২৫ সালের ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালতে জমা দেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিক হাসানুল হক ইনুর মামলার কথা বলা যায়।

তাঁরা সবাই বলেছেন: ‘আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন সময়ে আসামি হাসানুল হক ইনু বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি গণমাধ্যম, যেমন মিরর নাউ, নিউজ টুয়েন্টিফোর, আরটিভি–এ প্রদত্ত বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোল

তাঁরা সবাই বলেছেন: ‘আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন সময়ে আসামি হাসানুল হক ইনু বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি গণমাধ্যম, যেমন মিরর নাউ, নিউজ টুয়েন্টিফোর, আরটিভি–এ প্রদত্ত বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের জঙ্গি, সন্ত্রাসীসহ সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগের জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে।

৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, হাসানুল হক ইনু শেখ হাসিনাকে ফোন করে আন্দোলন দমনে নিরীহ–নিরস্ত্র ছাত্র–জনতাকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সমর্থন, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বোম্বিং করে আন্দোলন দমন ও সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে।’

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে ‘একাধিক আঘাত—যার মধ্যে গুলির সঙ্গে দেহ ভেদকারী আঘাতও রয়েছে—এর ফলে সৃষ্ট শক ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।’

কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যেহেতু প্রতিবেদনটিকে সরাসরি গ্রহণ করেছেন, তাই তাঁদের যুক্তি কার্যত গুরুত্ব পায়নি।

ওপরের সমস্যাগুলোই সব নয়; বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের আরও অনেক দিক আছে।

এমনকি অনেক সময় দেশের নিজস্ব আইনি মানদণ্ডও পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা আইসিটির সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: david.bergman.77377 জাস্টিসইনফো ডট নেট থেকে নেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ